সাজ্জাদুল তুহিন, বাংলা হেডলাইনস নওগাঁ: নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কসবা গ্রামে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির মহোৎসব চলছে ।
জমির মালিকেরা তাঁদের জমি ব্যবসায়ীদের কাছে ইজারা দিয়েছেন। এসব ব্যবসায়ীরা ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটার মালিক ও রাস্তার ঠিকাদারদের কাছে বিক্রি করছেন।
জমি থেকে গভীর করে মাটি তোলায় আশপাশের ফসলি জমিগুলোতে ধস দেখা দিয়েছে। এভাবে মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে কসবা গ্রামের ফসলি মাঠটি খাল-বিলে পরিণত হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাদের অভিযোগ, ৬-৭ বছর ধরে কসবা গ্রামের ফসলি মাঠের জমির মাটি কাটার চলছে মহোৎসব । এখন মাঠের অনেক জমির শ্রেণি পরির্বতন হয়ে গেছে। ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধের জন্য ভূমি অফিস, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।
সরেজমিনে কসবা গ্রামে ফসলি মাঠে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের ফসলি মাঠটির ৬/৭টি স্থানে বিশাল অংশজুড়ে দুই/তিন ফসলি জমির মাটি গভীর করে মাটি কাটার কাজ চলছে।
প্রতিটি স্থানেই এক সঙ্গে ৫-৬ টি ট্রাক্টর এসে মাটি নিয়ে যাচ্ছে। অবাধে ট্রাক্টর চলাচল করায় সাগরপুর থেকে কসবা গ্রাম পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার পাঁকা সড়কটি প্রায় নষ্ট হয়ে যেতে বসেছে।
প্রতি ট্র্যাক্টর মাটি ২৫০ টাকা করে বিক্রি করছে। ওই জমি থেকে গভীর করে মাটি কাটায় সেটি এখন খালে পরিণত হয়েছে।
ইটভাটা ও রাস্তার কাজে সেখান থেকে ফের মাটি কাটায় আশপাশের উচুঁ জমিগুলো ধসের হুমকিতে রয়েছে।
এক ট্রাক্টর চালক বলেন, আমার বাড়ি কসবাতেই। জমির মালিক তার জমিটি এক ব্যক্তিকে ইজারা দিয়েছেন। ইজারাদারেরা প্রতি ট্রাক্টর মাটি ২৫০ টাকা দাম নিচ্ছে।
রাস্তার ঠিকাদার ও ইটভাটার মালিক প্রতি ট্রাক্টর মাটি সাড়ে ৬শ টাকায় কিনছেন। প্রতিদিন গড়ে একটি ট্র্যাক্টর ১০ থেকে ১৫ টি ট্রিপ দিচ্ছে।
কসবা, সাগরপুর ও পচাঁরমোড়ের গ্রামবাসীরা জানান, বিগত ৬/৭ বছর আগে থেকে কসবা ফসলি মাঠ থেকে মাটি বিক্রির শুরু হয়। ৫-৬ জন জমির মালিক তাঁদের জমির বালু ও মাটি ব্যবসায়ীদের কাছে ইজারা দিয়েছেন।
এসব ব্যবসায়ীরা দুই/তিন ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটার মালিক ও রাস্তার ঠিকাদারদের কাছে বিক্রি করছেন।
আর প্রতিদিন গড়ে ২-৩ শ ট্রাক্টর বালু ও মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে এই মাঠ থেকে। গভীর করে মাটি কেটে নেওয়ার কারণে উচুঁ ফসলি জমি ধসে পড়ছে।
ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি বন্ধ করতে তাঁরা ইউনিয়ন ভূমি অফিস, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েছিলেন। কিন্তু একাধিক জনপ্রতিনিধি ইটভাটা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাঁরা কোন ব্যবস্থা নেননি।
ইটভাটার মালিকদের স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে। ফলে ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধ হচ্ছে না। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের বিষয়টি নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ওই এলাকার বাসিন্দা সবুজ, সোহেল, জাহিদ, মুনজুর ও আরমানসহ বেশ কিছু ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফসলি জমি কেটে মাটি বিক্রি বন্ধের জন্য ভূমি অফিস, ইউএনও অফিস ও ইউনিয়ন পরিষদ সবখানে গিয়েছি।
কিন্তু কেউ মাটি কাটা বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়নি। আমরা গরিব মানুষ আমাদের জমিজমা ধসে গেল কারও কিছুই যায় – আসে না।
ছালাম নামের এক বালু ও মাটি ব্যবসায়ী বলেন, জমিতে ফসল হয় না। তাই জমির মালিক আমাদের কাছে জমির মাটি বিক্রি করছেন।
বদলগাছী উপজেলা কৃষি অফিসার হাসান আলী বলেন, ফসলি মাঠে জমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রি দেওয়ায় অন্য জমিগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। জমির শ্রেণিও পরিবর্তন হচ্ছে। আমি বিষয়টি আমার উদ্ধর্তন কতৃপক্ষকে জানিয়েছি।
বদলগাছী সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমন জিহাদীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি গতরাতেই শুনেছি আজ খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু তাহির বলেন, কসবা গ্রামে ফসলি জমির বালু ও মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে বলে আমি প্রথম শুনলাম। আইন অমান্যকরে বালু ও মাটি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।