বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ায় ৩৫টি সুন্ধী প্রজাতির কচ্ছপের চালানসহ দুই ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী সংগঠন টিম ফর এনার্জি অ্যান্ড ইনভায়রনমেন্ট রিসার্চের (তীর) সহযোগিতায় বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের সদস্যরা সোমবার সকালে শহরের তিনমাথা রেলগেট এলাকায় বিক্রির সময় বিলুপ্ত প্রায় প্রাণীগুলো জব্দ করেন।
দুপুরে এ খবর পাঠানোর সময় বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসিম মল্লিক জানান, আটক কুচিয়া মাছ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
আটক ব্যবসায়ীরা হলো বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া হিন্দুপাড়ার মৃত হলধর দাসের ছেলে গোবিন্দ চন্দ্র দাস (৫০) ও পালশা পূর্বপাড়ার আফসার আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪৮)।
তীর’এর সাবেক সভাপতি আরাফাত রহমান জানান, আটক দুই ব্যবসায়ী সোমবার সকালে বগুড়া শহরের তিনমাথা রেলগেট এলাকায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে কচ্ছপগুলো অন্যত্র নিতে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
এ সময় তাদের সহযোগিতায় বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের সদস্যরা দুটি বস্তায় থাকা ৩৭ কেজি ওজনের ৩৫টি সুন্ধী কচ্ছপসহ কুচিয়া মাছ ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র দাস ও রফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়।
আটক ব্যবসায়ীরা জানান, তারা বগুড়ার কাহালু উপজেলায় হিন্দুদের একটি অনুষ্ঠানে সরবরাহ করতে নোয়াখালী, ভৈরব ও মুন্সিগঞ্জ থেকে কচ্ছপ/কাছিমগুলো সংগ্রহ করেছেন।
তারা প্রতিমাসে এমন ২-৩টি চালান ঢাকা, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এনে বিক্রি করে থাকেন। ঢাকার বিভিন্ন হোটেল, রেস্তরাঁয় প্রতিটি কচ্ছপ এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে।
বগুড়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় কিনে থাকেন।
অভিযানে থাকা বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসিম মল্লিক জানান, আইন অনুসারে কচ্ছপ ধরা, শিকার, ক্রয়-বিক্রয় ও খাওয়া দন্ডনীয় অপরাধ।
ইউনিটের পরিচালক এএসএম জহির উদ্দিন আকন জানান, কচ্ছপ/কাছিম পরিবেশের জন্য উপকারি। এরা সাধারণ শ্যাওলা, ছোট শামুক ও মাছ খেয়ে থাকে।
সিন্ধী কচ্ছপ থাকা জলাশয়ে পানি স্বচ্ছ থাকে ও মাছগুলো দ্রুত বড় হয়। কিন্তু মানুষ লোভের বশে সিন্ধী ক্রয়-বিক্রয় করায় এ প্রজাতির বিলুপ্তির পথে।
বন্যাপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২এর ৩৪ ধারা অনুযায়ী আটকদের সর্বোচ্চ এক বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ড হতে পারে।
প্রাণীগুলোর উৎস নিশ্চিত হওয়ার পর আটক কুচিয়া মাছ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে দুপুরে এ খবর পাঠানো পর্যন্ত তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ বা অন্য কোন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।