শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৪৩ অপরাহ্ন

ঘুষ নিয়ে বগুড়া জেলা মহিলা লীগের কমিটি গঠনের অভিযোগ

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ অক্টোবর, ২০২১
  • ৪৬ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ায় ঘুষের বিনিময়ে জেলা আওয়ামী মহিলা লীগের কমিটি ঘোষণার অভিযোগ উঠেছে।

সাবিহা সাবরিন পিংকি দলের কেউ না হলেও ত্যাগীদের বঞ্চিত করে তাকে সাধারণ সম্পাদকের পদ দেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রিয় সংগঠন যুব মহিলা লীগের নেতাকর্মীদের বের করে দেওয়া হলেও ওই সংগঠন থেকে অব্যাহিতপ্রাপ্ত একজন এবং মাদক ব্যবসাসহ অনৈতিক কাজে জড়িত কয়েকজনকে গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদকীয় পদে বসানো হয়েছে।

নির্বাচিত নেত্রীরা গত কয়েকদিন ধরে কেন্দ্রীয় নেত্রীদের পাঁচতারকা হোটেলে রেখে আপ্যায়ন ও উপঢৌকন দেওয়া নিয়ে এত ব্যস্ত রয়েছেন যে, তারা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে ভুলে গেছেন। এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা মহিলা লীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুরাইয়া নিগার সুলতানা ডরোথী এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, টাকার বিনিময়ে সাবিহা সাবরিন পিংকিকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। যিনি কোনদিন রাজনীতি করেননি। সভা-সমাবেশে তার যাতায়াত এক বছরও হয়নি।

কমিটির তালিকায় অন্যজনের নাম কেটে তার নাম বসানো হয়েছে। ডরোথী বলেন, অবিলম্বে এ প্রহসনের কমিটি বাতিল না করলে এ জেলায় সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

কমিটির উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত সাধারণ সম্পাদকসহ পাঁচজনকে আগামি পাঁচদিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলেছেন। এছাড়া তিনি এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি দিয়েছেন।

নির্বাচিত সভাপতি হেফাজত আরা মিরা জানান, সাধারণ সম্পাদক পিংকি তাকে না জানিয়ে কমিটি ঘোষণা করিয়েছেন, যাতে অনেক বিতর্কিত নারী রয়েছেন। পিংকি কোনদিন মহিলা লীগে ছিলেন না। মিরা ঘোষিত ওই কমিটিতে রদবদল হওয়ার কথা বললেও কেন্দ্র থেকে তড়িঘড়ি করে ৫৫ সদস্যের আংশিক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম জানান, টাকা নিয়ে বগুড়ার কমিটি ঘোষণা করেননি। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, যুব মহিলা লীগের কাউকে সম্মেলন থেকে বের করে দেননি। আর যুব মহিলা লীগ নেত্রীর পদ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত কাউকে নতুন কমিটিতে পদ দেওয়ার ব্যাপারে তার কিছু জানা নেই।

তবে সুপারিশের ভিত্তিতে ত্যাগী কয়েকজন বোনকে নেওয়া হয়েছে।

মহিলা লীগের নেতাকর্মীরা জানান, সদ্য সাবেক কমিটির তালিকায় নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক পিংকির নাম ছিল না। কেন্দ্র অনুমোদিত তালিকায় ৫৮ ও ৬০ নম্বরে থাকা দু’জন সদস্যের নাম কেটে সেখানে পিংকির নাম লেখা হয়েছে।

বগুড়া সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান (প্যানেল চেয়ারম্যান-১) ডালিয়া নাসরিন রিক্তা সম্মেলনে জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ ছেড়ে মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে অপমানজনকভাবে সম্মেলন স্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

অথচ সংগঠন বিরোধী ও অনৈতিক কাজে জড়িত থাকায় জেলা যুব মহিলা লীগ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেত্রীকে মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেত্রীরা জেলা নেতাদের খুশি রাখতে তাদের বউ, মেয়ে, বোন ও আত্মীয়-স্বজনকে নতুন কমিটিতে স্থান দিয়েছেন।

নেতাকর্মীরা আরো জানান, নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় নেত্রীদের পাঁচ তারকা হোটেলে রেখে তাদের আপ্যায়ন, উপঢৌকন প্রদান নিয়ে এত ব্যস্ত যে, গত পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও তারা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাননি। এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জেলা মহিলা লীগের নতুন সাধারণ সম্পাদক সাবিহা সাবরিন পিংকি সাংবাদিকদের বলেছেন, “তিনি স্কুল জীবন থেকে মহিলা আওয়ামী লীগের কর্মী। স্কুল পোশাক পড়ে শহরের সাতমাথায় আওয়ামী লীগের মিছিল করেছেন।”

এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে কেন্দ্রীয় নেত্রীদের কোন ঘুষ দেননি। স্কুলে থাকলে মহিলা লীগ করার দাবিতে অনেকে হতবাক হয়েছেন।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com