বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার ধুনটে একটি গর্ত থেকে হঠাৎ করে ধোঁয়া বের হওয়ায় গ্রামবাসীদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দেয়। ধোঁয়ার সাথে মিথেন গ্যাসের মত কটু গন্ধ ও গর্তে হাত দিলে তাপ অনুভত হওয়ায় নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়।
অনেকে ভয়ে মসজিদে মিলাদ-দোওয়ার আয়োজন করেন। উপজেলার শ্যামগাঁতি ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানান, এটা আতংকিত হবার কিছু নয়। ওই স্থানে আগে গাছ ছিল। কেটে সেখানে স্কুল করা হয়েছে। মাটির নিচে কিছু মিথেন জাতীয় গ্যাস জমা হয়েছিল। ওটা বের হওয়ায় গ্রামবাসীরা নানা প্রচারনা চালায়। বর্তমানে আর ধোঁয়া নেই।
শ্যামগাঁতি গ্রামের আসাদুজ্জামান, মোল্লা বকশ প্রমুখ জানান, কয়েকদিন উপজেলার শ্যামগাঁতি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ থেকে রাস্তায় হাঁটার সময় স্থানীয় কয়েকজন কিশোর-তরুণ পায়ে তাপ অনুভব করে। কৌতুহল বশত: তারা ইঞ্চি চারেক মাটি খুড়লেই সেখান থেকে ধোঁয়া বের হতে থাকে।
মুখে মুখে খবরটি প্রচার হলে শুধু ওইগ্রামের নয়; আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ এক নজর দেখার জন্য ভিড় করেন। অনেকে ভূত-জিনের কাজ মনে করে দোয়া-দরুদ পড়তে থাকেন। কোন ক্ষতি এড়াতে মসজিদে দোয়ার আয়োজন করা হয়।
গ্রামের কয়েকজন প্রবীণ জানান, ওই স্থানের আশপাশে পুকুরপাড় ও নিচু এলাকায় পুরাতন কয়েকটি বট-পাকুর গাছ ছিল। গত ৪-৫ বছর ধরে গ্রামবাসীরা ওই স্থানের পাশ দিয়ে সরু রাস্তায় চলাচল করেন। দিনে ধোঁয়া কম হলেও রাতে বেশি হয়। গ্রামবাসীরা ওই গর্তে কোন গ্যাস বা দাহ্য পদার্থ থাকার কথা ভেবে আতঙ্কিত হন। তবে ওই ধোঁয়ায় আগুন না জ্বলায় আস্তে আস্তে ভয় কেটে যায়।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানান, ভৌগোলিক বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে জেনেছেন, মাটির নিচে থাকা উদ্ভিদের অংশগুলো থেকে মিথেন গ্যাস তৈরি হয়। এরপর কোন কারণে সেখান থেকে ধোঁয়া বের হয়।
সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরো জানান, এখন আর ধোঁয়া নেই। গ্রামের কিছু মানুষ এ ঘটনা নিয়ে বেশি হৈ চৈ করেন। ফলে গ্রামবাসীদের অনেকের মাঝে আতংক দেখা দেয়।