বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া শহীদ খোকন পার্কে ছাত্রদলের অনশন থেকে সরকার বিরোধী শ্লোগান ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করায় ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে কর্মসূচি ভন্ডুল করে দিয়েছেন।
ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় উভয়পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরের ওই ঘটনায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নবাববাড়ি সড়কে বিএনপি কার্যালয়ে সামনে গিয়ে ব্যানার ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন। পুলিশী হস্তক্ষেপ ও লাঠিচার্জে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায়।
এ প্রসঙ্গে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী রিগ্যান জানান, তাদের উপর ছাত্রলীগের হামলার ক্ষমতা নেই। পুলিশ ছাত্রলীগের পক্ষ নিয়ে লঠিচার্জ করলে তাদের পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
জেলা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক তিতাস ও প্রচার সম্পাদক মুকুল ইসলাম জানান, অনশন কর্মসূচি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ঢিল নিক্ষেপ ও সরকার বিরোধী শ্লোগান দেওয়ায় ‘ছোট ভাইরা’ তা প্রতিহত করেছেন। এ সময় তাদের ২-৩ জন নেতাকর্মী সামান্য আহত হন।
বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সূত্র জানায়, সিলেটে হযরত শাহজালাল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যগের দাবিতে আন্দোলন চলছে। তাদের এ দাবির প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল অনশন কর্মসূচির ডাক দেয়। এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত বগুড়া শহরের শহীদ খোকন পার্কে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি আহবান করা হয়। বেলা সোয়া ১টার দিকে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক মুকুল ইসলামের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অনশন কর্মসূচিতে হামলা চালায়। এতে তাদের সহ-সাধারণ সম্পাদক সামীউল সাদাত সুজন ও উজ্জ্বল হোসেন, গাবতলীর নেতা আল আমিন, শেরপুরের নেতা স্বাধীন ও আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের নেতা সৌরভ আহত হন। তখন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রতিহত করলে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অনশন কর্মসূচি ভন্ডুল হয়ে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নবাববাড়ি সড়কে দলীয় কার্যালয়ের সামনে চলে যান। এরপর পুলিশ প্রহরায় ছাত্রলীগের বিপুল সংখ্যাক নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা হাতে সেখানে গিয়ে ব্যানার ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা টেম্পল রোডের দলীয় কার্যালয়ে ফিরে আসেন।
জেলা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক প্রচার সম্পাদক মুকুল ইসলাম জানান, খোকন পার্কে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি চলছিল। বেলা সোয়া ১টার দিকে তিনি ও কয়েকজন নেতাকর্মী পার্কের পশ্চিম গেটে ফুটপাতে চা পান করতে যান। এ সময় অনশন কর্মসূচি থেকে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু হাসান আগ্নেয়াত্র উঁচিয়ে সরকার বিরোধী শ্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। খবর পেয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এসে তাদের প্রতিহত করলে ছাত্রদলের অনশন কর্মসূচি ভন্ডুল হয়ে যায়। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় ছাত্রলীগের ২-৩ নেতাকর্মী সামান্য আহত হয়েছেন।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু হাসান জানান, তিনি কোন আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেননি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী রিগ্যান জানান, ছাত্রলীগের চেয়ে তারা সংখ্যায় অনেক বেশি ছিলেন। তাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা করতে সাহস পাননি। বরং পুলিশের লাঠিচার্জে তাদের কর্মসূচি ভন্ডল হয়।
বগুড়া সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর তাজমিলুর রহমান বলেন, শহীদ খোকন পার্ক এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে রাকিব নামে ছাত্রদলের একজন ফাঁড়িতে আশ্রয় নেন। পরে তাকে দলীয় নেতাদের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় বিএনপি অফিসের সামনে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।