বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ায় আমেরিকা প্রবাসী আবদুর রাজ্জাক সরকারকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অস্ত্রসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসী ওমর খৈয়াম সরকার রূপম ওরফে হাতকাটা রূপম (৪৫) এবং তার দুই সহযোগিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
হত্যাকান্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় সদর থানা পুলিশ মঙ্গলবার রাতে তাদের শহরের দত্তবাড়ি এলাকায় প্রাইভেট কার থামিয়ে গ্রেফতার করে। এ সময় কারে ব্যবসায়ীর কাছে ছিনিয়ে নিয়ে গুলি করা একটি বিদেশী পিস্তল পাওয়া যায়।
গ্রেফতারকৃত অন্য দু’জন হলো গুলিবিদ্ধ হিফযুল হক জনি (২৬) ও আল আমিন (২২)। বুধবার বিকালে সদর থানার এসআই ওসমান গণী তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করেছেন।
ওসি সেলিম রেজা জানান, ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, এরা তিনসহ ৬-৭ জন হত্যাকান্ডে অংশ নিয়েছিল। আরো দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নিহতের ছেলে শোভন সরকার বাদী হয়ে রূপম, জনি, আল আমিন, সীমান্ত ও লিমন শেখের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাত সাতজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ওসি সেলিম রেজা আরো জানান, গ্রেফতার পাঁচজনই আমেরিকার নাগরিক আবদুর রাজ্জাক সরকারকে হত্যায় সরাসরি জড়িত। মঙ্গলবার রাত পৌণে ১টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার শেকেরকোলা ইউনিয়নের মহিষবাথান তিনমাথা এলাকায় রাজ্জাক সরকারকে কুপিয়ে ও পিস্তল কেড়ে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে।
এরপর হত্যাকারীরা একটি প্রাইভেট কারে (ঢাকা মেট্রো-খ-১৫-৫৫৭২) শহরে আসে। শহরের দত্তবাড়ি মোড়ে সদর থানা পুলিশ বেপরোয়া গতির কারটি থামিয়ে তল্লাশি করে। তখন কারে একটি বিদেশী পিস্তলসহ রূপম ও তার সহযোগিদের গ্রেফতার করা হয়।
ওসি আরো জানান, রূপমসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। নিহতের পরিবার থেকে হত্যা মামলা হলে অপর আসামিদের গ্রেফতার করা হবে।
গোলাগুলির সময় জনি, আল আমিন ও মহিষবাথান গ্রামের টাইলস মিস্ত্রি আবদুল হান্নান (৪৫) নামে এক পথচারী গুলিবিদ্ধ হন।
জানা যায় সন্ত্রাসীরা আবদুর রাজ্জাক সরকারকে (৬৫) গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করেছে। রাজ্জাক সরকার আত্মরক্ষায় ব্যক্তিগত পিস্তল দিয়ে গুলি করেও রেহাই পাননি।
মঙ্গলবার ঈদের মধ্যরাতে সদর উপজেলার শেকেরকোলা ইউনিয়নের মহিষবাথান তিনমাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
রাজ্জাক সরকার শহরে বসবাস করলেও মায়ের কবর জিয়ারত শেষে ঘটনাস্থলে আড্ডা করছিলেন।
সদর থানার ওসি সেলিম রেজা জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, নিহত আবদুর রাজ্জাক সরকার বগুড়া সদর উপজেলার মহিষবাথান গ্রামের মৃত আবদুল লতিফ সরকারের ছেলে। তিনি আমেরিকার নাগরিকত্ব পেয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সেখানে বসবাস করতেন। বগুড়া শহরের ইয়াকুবিয়া স্কুল মোড় এলাকায় বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গ্রামে অনেক জমি রয়েছে। কিছুদিন আগে আবদুর রাজ্জাকের মা মারা যান।
মঙ্গলবার ঈদের দিন রাতে তিনি বগুড়া শহর থেকে মহিষবাথান গ্রামে মায়ের কবর জিয়ারত করতে আসেন। কবর জিয়ারত শেষে তিনি বাড়ির কাছে মহিষবাথান তিনমাথা এলাকায় একটি দোকানে চা পান করছিলেন।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার চাচাতো ভাই শহরের শিববাটি এলাকার খোকন সরকারের ছেলের সন্ত্রাসী ওমর খৈয়াম সরকার রূপম ওরফে হাতকাটা রূপমের নেতৃত্বে ৮-১০ মোটরসাইকেলে অন্তত ১৮ সন্ত্রাসী সেখানে এসে তাকে ঘেরাও করে।
তারা প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাজ্জাক সরকারকে কোপ দেয়। তখন তিনি আত্মরক্ষায় ব্যক্তিগত পিস্তল দিয়ে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে সরে পড়ার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তিনমাথা এলাকায় রাস্তায় পড়ে যান। তখন সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কোপায়। এরপর পিস্তল কেড়ে নিয়ে তার শরীরে গুলি করে বীরদর্পে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বিপুল সম্পত্তির মালিক আবদুর রাজ্জাকের পরিবারের সবাই আমেরিকা থাকায় ও তাদের সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যেই ভাতিজা সন্ত্রাসী রূপমের নেতৃত্বে এ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয় বলে স্থানীয়দের ধারণা।