বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: ক্লাস চলাকালে ‘ডিস্টার্ব’ করার অজুহাতে বগুড়া পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র সাকিবুর রহমান সাকিবকে মারপিট করে রক্তাক্ত করেছেন, পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক।
বুধবার সকালে স্কুল চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে ছাত্রের বাবা প্রতিকার পেতে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক জানান, ক্লাস চলাকালে হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা দোলনার কাছে এসে দুষ্টুমি করছিল। এতে ক্লাস নিতে ডিস্টার্ব হচ্ছিল। বার বার নিষেধ করার পরও তারা সরে যায়নি। তাই তাদের সরিয়ে দিতে গিয়ে হাত লেগে দাঁত দিয়ে রক্ত বের হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, কোন ছাত্রকে মারপিট করা হয়নি; ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। স্কুলের সভাপতি পুলিশ সুপার সন্ধ্যা ৭টায় তাকে ডেকে পাঠিয়েছেন।
সাকিবের মা শহরের সুত্রাপুর এলাকার শহিদুল ইসলামের স্ত্রী তহুরা মার্জিয়া শারমিন জানান, প্রধান শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক অন্যায়ভাবে তার ছেলেকে পেছন থেকে কলার ধরে বেদম মারপিট করেছেন। নাক ফেঁটে অনেক রক্ত ঝড়েছে; চোখে ঝাপসা দেখছে। তিনি তার ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। তিনি প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
পুলিশ সুপার ও স্কুলের সভাপতি সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও), ছাত্রের অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে বসা হবে। এতে প্রধান শিক্ষক আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলা হবে।
বগুড়া পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র (শাখা: খ, রোল: ১১) সাকিবুর রহমান সাকিবের বাবা শহিদুল ইসলাম পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, তার ছেলে বুধবার বেলা ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে স্কুলের পাশে দোলনার কাছে যায়। এ সময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক অকারণে পিছন থেকে আটক করে বেধড়ক মারপিট করে। শার্টের টাই চেপে ধরায় গলায় ফাঁস লাগে। মারপিটে নাকে, দুই চোখে আঘাত করায় ছেলে চোখে ঝাপসা দেখছে। কিলঘুষিতে চশমার কাঁচ ভেঙে নাকে-মুখে লেগে রক্তক্ষরণ হয়। নাক ফেটে অনেক রক্ত বের হয়।
এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিলঘুষি মেরে রক্তাক্ত জখম করেন। পরে সহপাঠি ও স্কুলের শিক্ষকরা সাকিবকে উদ্ধার করে স্থানীয় ইবনেসিনা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেন।
শহিদুল ইসলাম আরো অভিযোগ করেন, এর আগেও প্রধান শিক্ষক কয়েকজন ছাত্রকে অকারণে মারপিট করেছেন। অভিভাবকরা এর কোন প্রতিকার পাননি। তিনি তার ছেলেকে মারপিটকারী শিক্ষক নামধারী আবদুর রাজ্জাকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
বগুড়া পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহাদৎ আলম ঝুনু তার প্রতিষ্ঠানের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রকে মারপিটের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।