বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৩ অপরাহ্ন

দালালের প্রতারণায় জিডির নামে ধর্ষণ মামলা

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট, ২০২২
  • ২৩৫ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস, সাজ্জাদুল তুহিন, নওগাঁ প্রতিনিধি: ধর্ষণ মামলার বাদী মোকসেদ আলী একজন সহজ সরল মানুষ। জিডি করতে দুই দালালকে সঙ্গে নিয়ে আসেন থানায়। থানার বাইরে মামলার বাদী মকছেদ আলীকে বসিয়ে রেখে, জিডি লিখে দিচ্ছে তারা।

এরপর জিডি লেখা শেষ হলে মোকসেদ আলীর নিকট থেকে স্বাক্ষর নেয় হয় । এরপরে জিডি থেকে হয়ে গেল ধর্ষণ মামলা।

বাদী পরে জানতে পারে তার মেয়ের সম্পৃক্ত এনে টগর নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন । এটা শুধু ছিল দালালদের টাকা আদায়ের অভিনব কৌশল। ঠিক কিছু সময়ের ব্যবধানে ছেলে পক্ষের নিকট থেকে ধর্ষণ মামলা মিমাংসার নামে লক্ষাধিক টাকা আদায় করে নিয়েছে, দালাল নামে খ্যাত জাহাঙ্গীর ও সামসুদ্দিন।

সম্প্রতি এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার ১০নং নুরুল্যাবাদ ইউপির মীরপাড়া গ্রামে। সাজানো ধর্ষণ মামলার আসামি একই এলাকার আব্দুস ছালাম মন্ডলের ছেলে টগর আলী (২২)।

মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় প্রায় আড়াই মাস ধরে জেল হাজতে রয়েছেন তিনি। ধর্ষণ মামলার বাদি মোকসেদ আলী উপজেলার নুরুল্যাবাদ ইউপির মীরপাড়া গ্রামের বশরুতুল্যাহ সরদারের ছেলে।

ঘটনার পর মামলার বাদী মকছেদ আলী জানান, জিডি করার নাম করে আমার প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর আলম ও শামসুদ্দিন নামে দুই দালাল আমার নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়েকে জড়িয়ে তারা গত ৩ জুন টগর আলীর নামে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

এটনায় আমি খুব লজ্জিত ও বিব্রত। আমি কোন রকম  স্বাক্ষর জানলেও লেখাপড়া জানিনা। পরে পুলিশের কাছে জানতে পারি ধর্ষণ মামলা হয়েছে।

মেয়ের মা মোরশেদা বেগম জানান, মামলার আসামি টগর আলি আমার প্রতিবেশী দেবর। সে আমার মেয়েকে রাস্তায় উত্ত্যক্ত করত। এই জন্য থানার দালাল জাহাঙ্গীর ও শামসুদ্দিন আমার স্বামীকে নিয়ে জিডি করতে থানায় যায়। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পুলিশ আমার মেয়েকে নিয়ে গেলে জানতে পারি, ধর্ষণ মামলা হয়েছে।

ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তি ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ ভুট্টু জানান, জাহাঙ্গীর ও শামসুদ্দিন এরা থানার দালাল, পুলিশের ভয়-ভীতি এবং মাদক দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন এলাকার সাধারণ মানুষদেরকে।

মেয়ের বাবাকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিডির নামে ধর্ষণ মামলা করিয়ে দিয়েছেন তারা। এরপর ধর্ষণ মামলা মীমাংসা করার জন্য দুই দালাল থানার নামে, ২০ হাজার এবং বাদীর নামে ১ লক্ষ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তোর ছেলের ধর্ষণ মামলায় ফাঁসি হবে। তখন ছেলের বাবা নিরুপায় হয়ে ভয়ে দাবীকৃত টাকা দিয়ে মিমাংসা হয়েছেন। কিন্ত টাকা নেওয়ার পর থেকে ছেলের পরিবারকে পাত্তা দিচ্ছে না তারা।

থানার চুড়ান্ত প্রতিবেদন দুর্বল করে দিবো মর্মে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু হিতে বিপরীত।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম ও শামসুদ্দিন সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, এব্যাপারে আপনাদের কিছুই বলতে পারবো না। তবে যে টাকা লেনদেন হয়েছে সে বিষয়ে জোতবাজারের সাংবাদিক নেতা আব্দুল মজিদ সব জানে। সব কিছু তাকে নিয়ে করেছি। কথা বললে তাকে নিয়ে আসেন ।

এ ব্যাপারে মান্দা থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জাহিদ হাসান জানান, মিমাংসার নামে টাকা পয়সা নিয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। এবিষয়ে আমি কিছু জানিনা।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com