বাংলা হেডলাইনস: গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ বিষয়ে অনলাইন অ্যাক্টিভেস্টদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার গুলশানের একটি হোটেলে জাতীয়তাবাদী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের আয়োজনে এক ইফতার অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “আমরা যারা রাজনীতি করি, রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্ট বা রাজনৈতিক কর্মী আমরা গত কিছুদিন ধরে বলছি যে, ষড়যন্ত্র ছিল দেশের বিরুদ্ধে, দেশের জনগণের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভিত্তির বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র ছিল…ষড়যন্ত্র আবারো শুরু হয়েছে।
এ ব্যাপারে অ্যাক্টিভিস্টদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক বলেন, “আপনারা যারা অ্যাক্টিভিস্ট আছেন নিশ্চয়ই আপনারা তা অনুধাবন করছেন। আমার একান্ত আহ্বান থাকবে, অনুরোধ থাকবে আপনাদের কাছে.. মতপার্থক্য থাকতেই পারে। … এই মুহূর্তে বিএনপি তার সকল অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের সহযোগিতা যেকোনো সময়ের চাইতে এখন বেশি প্রয়োজন বলে মনে করে।”
তারেক রহমান বলেন, “একটি মহল যারা ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে। একই সাথে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে তারা তাদের অবস্থান থেকে… তাদের সাথে যে সকল মিডিয়া হাউজের সম্পর্ক আছে তাদের মাধ্যমে ঠিক ওয়ান ইলেভেনের সময়ে যেভাবে বিএনপিকে মিডিয়া ট্রায়ালের সম্মুখীন করা হয়েছিল, ঠিক একইভাবে একটি প্রেক্ষাপট তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
তারেক বলেন, “দেশ স্বাধীনের পর থেকে এই মুহূর্ত পর্যন্ত বাংলাদেশে সংস্কার বলতে অথবা মানুষের অথবা দেশের জন্য ভালো কিছু করলে সেটা স্বাস্থ্য খাত বলুন, শিক্ষা খাত বলুন, কৃষি খাত বলুন, খাদ্য উৎপাদন বলুন, শিল্পা খাত বলুন, বেকার কর্মসংস্থান বলুন, বিদেশে কর্মসংস্থান বলুন, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ বলুন, প্রত্যেকটির ফ্যাক্ট অ্যান্ড ফিগার ডেটা দিয়ে প্রমাণ করে দিয়ে দেওয়া যাবে যে, বিএনপি যতবার জনগণের সমর্থনে দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে এই সকল প্রত্যেকটি বিষয়ে বিএনপিই সবচাইতে বেশি অবদান রেখেছে, রাখতে সক্ষম হয়েছে।
বিএনপির দুর্নীতি নির্মূলে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনসহ কয়েকটি পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের ইনটেনশন ভালো বলেই আজ থেকে আড়াই বছর আগে আমরা ৩১ দফা সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছি।”
ইফতার অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আজকে আমাদেরকে নতুন করে সেই যুদ্ধ করতে হবে। ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, চক্রান্ত শুরু হয়েছে।
“সেই ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করে দিয়ে আমাদের যোদ্ধারা পারবেন এই যুদ্ধে জয়ী হতে, এই বিশ্বাস আমার আছে।”
জাতীয়তাবাদী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টিদের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ্ উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক সৈয়দ মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদি আমিন, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের মধ্যে ওয়াহিদ উন নবী, রেজাউনুল হক শোভন, নাসিফ ওয়াহিদ ফয়জাল, মোস্তফা কামাল পলাশ, ইয়াসীন মাহমুদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির ৩১ দফার ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।