বাংলা হেডলাইনস সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: দফায় দফায় প্রবল বর্ষণ ও পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সেইসাথে চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গনে বসতবাড়িসহ বহু ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
গত ২৪ ঘন্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ ও কাজিপুর পয়েন্টে ২১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে যমুনা তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দফায় দফায় প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে ও হচ্ছে। এতে যমুনা পাড়ের মানুষ এখন বন্যার আশংকা করছে।
যমুনা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলের কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশ, নিশ্চিন্তপুর, খাসরাজবাড়ি, চৌহালী উপজেলার খাসকাউলিয়া জনতার স্কুল এলাকা, উমারপুর, স্থল, তেঘরি, কুড়াগাছা, লাঙ্গলমুড়া, ঘোড়জান, ফুলহারা, চালুহারা, শাহজাদপুর উপজেলার গোপালপুর, সোনাতনী, ধীতপুর, শ্রীপুর, কুরসি, মাকড়া, ভাটদিঘুলিয়া, চর ঠুটিয়া, বেলকুচি উপজেলার বড়ধূল ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ভাটপিয়ারি ও বাহুকা গ্রামে ব্যাপক ভাঙ্গণ শুরু হয়েছে।ভাঙ্গনে ইতিমধ্যেই চরাঞ্চলের আঁখ পাট ও বাদামসহ বহু ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, ভাঙ্গনে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড তেমন খোঁজ খবরও নিচ্ছে না। প্রায় দেড় সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় বর্ষণে যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে এবং সেইসাথে ভাঙ্গনের তীব্রতাও বাড়ছে। ভাঙ্গনের মুখ থেকে অনেক পরিবার অনত্র আশ্রয় নিয়েছে ও নিচ্ছে। ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, কয়কদিন ধরে যমুনার পানি বাড়ছে। এতে অনেক স্থানে ভাঙ্গনও শুরু হয়েছে। এ ভাঙ্গন বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাজমুল হোসাইন বলেন, কয়েকদিন ধরে যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার এবং কাজিপুর পয়েন্টে ১১ সেঃ মিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে যমুনার অনেক স্থানে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং পানি বৃদ্ধি থাকায় অনেক স্থানে ভাঙ্গনও শুরু হয়েছে।ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।