বাংলা হেডলাইনস: দলের রীতি মেনে সিলেট থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচারে নামতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
প্রচারে নামার আগে বুধবার রাতে হয়রত শাহ জালাল (র.) এবং হয়রত শাহ পরানের (র.) মাজার জিয়ারত করেন তিনি।
বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে সিলেট থেকেই প্রচারাভিযান শুরু করেন জিয়াউর রহমান। ১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে সব নির্বাচনে সিলেটে থেকে প্রচারাভিযান শুরু করেন খালেদা জিয়াও।
সেই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানও বৃহস্পতিবার প্রচারাভিযান শুরু করতে যাচ্ছেন সিলেট থেকেই।
বুধবার সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। রাত ৮টার দিকে এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।
তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানও আছেন।
বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে মাজারের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান; পৌঁছান রাত সোয়া ৯টার দিকে।
যাওয়ার পথে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানাতে সড়কের দুপাশে জড়ো হন হাজারো মানুষ। তারেক রহমানও বাসের ভেতর থেকে কর্মী-সমর্থকদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
মাজারে পৌঁছে প্রথমে হয়রত শাহজালালের (র.) মাজার জিয়ারত করেন। এরপর মাজারের পাশে নামোজের স্থানে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করেন।
পরে তারেক রহমান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানীর কবরে ফাতেহা পাঠ করার পাশাপাশি মোনাজাতে শরিক হন। ইসলমী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান এমএ রকীব মোনাজাত পরিচালনা করেন।
মাজারের নিচে নারীদের জন্য নির্ধারিত ঘরে বসে মাজার জিয়ারত করেন জুবাইদা রহমান।
তারেক রহমান পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই শাহজালালের মাজার প্রাঙ্গণে জড়ো হয় হাজারো মানুষ। আশপাশের সড়ক ও ভবনের ছাদেও কর্মী-সমর্থকদের দেখা গেছে।
তারেক রহমান মাজার থেকে বের হওয়ার পর স্থানীদের অনেকেই ‘দুলাভাই দুলাভাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
শাহজালালের মাজার থেকে তারেক রহমান সড়কপথে রওনা হন সিলেট শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খাদিমনগরে হয়রত শাহ পরানের (র.) মাজারের উদ্দেশে। সেখানে মাজার জিয়ারত শেষে তিনি যান দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে।
শ্বশুরবাড়িতে কিছু সময় অবস্থানের পর শহরের ‘গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে’ ওঠেন তারেক রহমান। সেখানেই তিনি রাত্রিযাপন করছেন।
তারেক রহমান সবশেষ সিলেটের মাটিতে পা রাখেন ২২ বছর আগে। ওই সময় সিলেট জেলা বিএনপির কর্মী সম্মেলনে এসেছিলেন তিনি। তখন তিনি ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব।
মাঝের দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন। চব্বিশের ৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ে ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশের মাটিতে পা রাখেন।
জেলা বিএনপির নেতারা তারেক রহমানের সফরসূচি সম্পর্কে জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে ‘অরাজনৈতিক তরুণের’ সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
সকাল ১১টার দিকে তিনি নগরীর চৌহাট্টা এলাকার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এখান থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে তার নির্বাচনি প্রচার শুরু হবে।
সিলেটের জনসভা শেষ করে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকায় ফিরবেন। ফেরার সময় তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এবং হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় দুটি জনসভায় বক্তব্য দেবেন।
পথে কিশোরগঞ্জের ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে সভা করার কথা রয়েছে বলেও দলীয় নেতারা বলছেন।
তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো হয়েছে সিলেট নগরীর বিভিন্ন স্থানে।
সিলেটে তারেক রহমানের আগমন ও জনসভাকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা নিয়মিত মাইকিং, প্রস্তুতি সভা, প্রচার শেষ করেছেন। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ।
নগরীর রিকাবীবাজার, চৌহাট্টা ও আম্বরখানা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত তোরণ, বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সাজনো হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে রয়েছে জনসভার প্রচারের ব্যানার-ফেস্টুন। নগরজুড়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
আলীয়া মাদ্রাসা মাঠের চারপাশ সাজানো হয়েছে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানানোর বিলবোর্ড-ব্যানার-ফেস্টুনে। মাদ্রাসা মাঠে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “জনসভা ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকবে।”