বাংলা হেডলাইনস: ক্রসফায়ার ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) দেওয়া বক্তব্য সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ‘আমাদের অত্যন্ত দুঃখ লাগে, পুলিশ বাহিনীর প্রধান সরকারের একটা অংশ, তিনি ক্রসফায়ারের কথা বলেন। মুখ ফসকে বেরিয়ে গেলে ভিন্ন ব্যাপার। কিন্তু এটা তো সরকারকে বিব্রত করার মতো অবস্থা।’
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিনা মূল্যের মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে দেশে পর্যাপ্ত আইন রয়েছে। এসব আইন প্রয়োগের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।
১৭ বছর দেশকে ক্রসফায়ারে হত্যা, গুম, গুপ্তহত্যা ও রক্তপাতের মতো অমানবিক দুঃশাসন সহ্য করতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ।
তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ৫ আগস্ট এসেছে। এরপর অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে।
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে ওঠার প্রত্যাশা করছেন দেশের মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানের এ ধরনের বক্তব্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
প্রধানমন্ত্রীর মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন রিজভী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আরও বসবাসযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা তারেক রহমানের স্বপ্ন ও উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ঢাকার কয়েকটি এলাকায় কিশোর অপরাধ ও অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রিজভী।
তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীতে অনেক সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিলে তারা কার্যকরভাবে অপরাধ দমন করতে পারবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
কোনো ধরনের প্রভাব ছাড়া আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হলে সমাজ থেকে অপরাধ দূর করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, গুম কিংবা ক্রসফায়ার—কোনো ধরনের বিচারবহির্ভূত পদ্ধতিই অপরাধ নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায় হতে পারে না।
এর আগে সোমবার আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছিলেন, সরকার অনুমতি দিলে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে প্রয়োজন হলে পুলিশ ক্রসফায়ারে যেতে দ্বিধা করবে না।