বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্য সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে: রিজভী জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠায় জাপানকে সহযোগিতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ারে যেতে পারে পুলিশ: আইজিপি ডিসেম্বরে হাসিনার ফেরার খবরে অস্থিরতার সুযোগ দেবে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এখনো ভালো লক্ষণ দেখছি না : জামায়াত আমির সৌদি আরবে কারাবন্দি ৭৫০০ বাংলাদেশি : শামা ওবায়েদ মোংলা বন্দর-সুন্দরবন ও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর সাজেকে গোলাগুলি।। ২,৯৩৩ পর্যটককে সরিয়ে নিল নিরাপত্তা বাহিনী দুর্নীতি বন্ধে আগে রাজনৈতিক নেতাদের সৎ হতে হবে: আইনমন্ত্রী

দন্ডিত হয়েও ২৩ আসামি থাকতে পারছেন বাড়িতে

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৩৫৮ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস রাজশাহী : রাজশাহীর নওহাটা কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রত্যয় কুমার সাহা সামান্য পরিমাণ মাদকসহ পুলিশের হাতে আটক হন।

মামলার বিচার শেষে রাজশাহীর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেন। তবে আদালত তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে সংশোধনের জন্য পরিবারের হাতে তুলে দেন।

আপসযোগ্য একটি মামলায় রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ৭০ বছর বয়সি বৃদ্ধ আমির উদ্দিনের এক বছরের সাজা হয়। সারাজীবনে তিনি এ প্রথম সাজা পেয়েছেন। সাজা হলেও বাইরে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কারণ অপরাধ ও বয়স বিবেচনায় আদালত তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে বাড়িতে থেকে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছেন।

আমির উদ্দিন বলেন, ভুল ত্রুটি সংশোধনের জন্য আদালত আমাকে সুযোগ দিয়েছেন। বাড়িতে থেকে আমি স্বাক্ষর করা শিখেছি। আদালতের চেষ্টায় বয়স্ক ভাতাও পাচ্ছি। এজন্য আমি বিচার ব্যবস্থা ও সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ।

রাজশাহী আদালত থেকে এমন সাজাপ্রাপ্ত অন্তত ২৩ আসামিকে কারাগারে যেতে হচ্ছে না। ছোটখাটো অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে সংশোধনের মাধ্যমে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে ‘প্রবেশন’ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাড়িতে থাকার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

 ‘দ্য প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিন্যান্স, ১৯৬০’ অনুযায়ী এমন সুবিধা পাচ্ছেন তারা।

বিচারকরা আসামি সম্পর্কে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তার প্রাক-প্রতিবেদন পেয়ে এমন রায় দিয়েছেন। এতে আদালতের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত আসামিরা সংশ্লিষ্ট সমাজকল্যাণ অফিসের একজন প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে থাকবেন।

জানা গেছে, অধ্যাদেশটি অনেক পুরোনো হলেও বাংলাদেশে প্রয়োগ ছিল না বললেই চলে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এক নির্দেশনায় অধস্তন আদালতের বিচারকদের অধ্যাদেশটি অনুসরণের নির্দেশ দেন। এর পর থেকে এর দৃশ্যমান প্রয়োগ শুরু হয়।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবেশনের ফলে নিজেকে সংশোধন ও অপরাধ প্রবণতা থেকে নিবৃত্ত করতে আসামিরা উৎসাহী হবে। বর্তমানে দেশের কারাগারগুলোতে দ্বিগুণের বেশি বন্দি, যাদের বেশিরভাগই মাদক মামলার আসামি।

লঘুদন্ডের অনেকেই কারাগারে গিয়ে দাগি আসামির সংস্পর্শে ভবিষ্যতে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে। প্রবেশনের ফলে এ প্রবণতা রোধ করা যাবে। এ ধরনের রায় বিচারাঙ্গনের মামলাজট নিরসনেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

রাজশাহী কোর্টের আইনজীবী শামীম আহমেদ বলেন, প্রথম ও লঘু অপরাধের ক্ষেত্রে প্রবেশন খুব ইতিবাচক ও প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে আসামিরা নিজেদের সংশোধনের চমৎকার সুযোগ পাচ্ছেন।

আদালতের নির্ধারিত সময়ে তারা প্রবেশন কর্মকর্তার  তত্ত্বাবধানে থাকেন। এর ফলে একদিকে মামলার জট কমবে এবং আমাদের কারাগারগুলোতে আসামিদের চাপও কমবে।

রাজশাহীর প্রবেশন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, আসামি সম্পর্কে আদালতে আমরা একটি প্রাক-প্রতিবেদন পাঠাই। প্রতিবেদনে এটি তার প্রথম অপরাধ কিনা, সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা, প্রতিবেশীরা তাকে কিভাবে মূল্যায়ন করে এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়। আদালতে প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত দেন।

প্রবেশন অনুযায়ী, দন্ডপ্রাপ্ত আসামি কারাগারে আবদ্ধ কক্ষে নয়, মুক্ত বাতাসে পরিবার-পরিজনের সান্নিধ্য পাবেন। শর্ত হিসেবে নতুন করে অপরাধ প্রবণতায় না জড়ানো ও সদাচরণ করতে হবে। এসব শর্ত ভঙ্গ হলে তার বিরুদ্ধে দেওয়া ওই দন্ড কার্যকর হবে এবং সাজাভোগ করতে হবে।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com