বাংলা হেডলাইনস গাজীপুর : গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ আন্তঃজেলা ছিনতাইকারী ও অপহরণকারী চক্রের ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে।
মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যে গত জানুয়ারি মাসে এই চক্রটি ১৭টি অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।
এ নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জিএমপি হেডকোয়ার্টার এর সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিং করা হয়।
ব্রিফিঙে জিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার ডিসি (ডিবি) মোহাম্মদ নুরে আলম জানান, নগরের জাঝর
এলাকা থেকে গত ২৩ জানুয়ারি তানভির হোসেন সিয়াম নামে এক স্কুলছাত্র অপহরণ হয়। অপহরণের পর ২৫ জানুয়ারি ভিকটিমকে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাশ থেকে উদ্ধার হয়। সিয়ামকে অপহরণ করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল।
এই অপহরণের ঘটনাটি ঘিরে তৎপরতা চালিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের দল তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে একজন নারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের নামে বিভিন্ন থানায় অপহরণ, হত্যা, মাদক, ছিনতাই ও ডাকাতির মামলা রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ভিকটিম তানভীর হোসেন সিয়াম জানান, কোচিং ক্লাস শেষে বাসায় ফেরার পথে তাকে অপহরণের পর মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসে তুলে দুই দিন বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানো হয়। পরে ফেলে দেওয়া হয় ফাঁকা রাস্তায়।
তার বাবা আব্দুল জলিল জানান, ছেলে অপহরণের পর তার কাছে মোবাইল ফোনে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়। তিনি অপহরণকারী চক্রের কঠোর শাস্তি দাবি করছেন।
অপহরণকারী চক্রের সদস্য মামুনকে প্রথমে নগরের সালনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে বিভিন্ন এলাকা থেকে বাকিদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মামুন হোসেন, মিল্টন মাসুম, শাহিন আলম, ইউসুফ মিয়া, হাসান চৌধুরী ও মিল্টনের স্ত্রী খালেদা আক্তার।
তাদের হেফাজত থেকে অপহরণ কাজে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল, সাংবাদিকতার পরিচয় পত্র, আটটি মোবাইল ফোন ও নগদ ১৩,৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
এই চক্রটি গাজীপুর ছাড়াও ঢাকা, নরসিংদী মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় অপকৌশলে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।