বাংলা হেডলাইনস টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মধুপুরে আদিবাসী গণমাধ্যমকর্মী প্রিন্স এডওয়ার্ড মাংসাংকে নির্যাতনের বিচার দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরের দিকে মধুপুরের আাদিবাসী কয়েকটি ছাত্র সংগঠন এ সম্মেলন করে।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রিন্স এডওয়ার্ড মাংসাং জানান, গত ১৮ আগস্ট মধুপুর উপজেলার জলছত্র হাওদা বিলের পানিতে দুটি লাশ পাওয়া গেছে। এ খবর পেয়ে তিনি সেখানে গিয়ে কিছু ভিডিও ফুটেজ ও ছবিসহ তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করেন।
সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে অরণখোলা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। তখন তিনি মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে চলে যাওয়ার সময় চেয়ারম্যানের নির্দেশে ইউপি সদস্য আবুল হোসেন, প্রবীর বর্মনসহ কয়েকজন দৌড়ে এসে তাকে লাথি, কিল, ঘুষি মারতে থাকেন।
এক পর্যায় চেয়ারম্যান নিজেই লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো শুরু করেন। এ সময় তার সাথে থাকা ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, মোবাইল, নগদ টাকা, আইডি কার্ড, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়া হয়।
একইসাথে মোটরসাইকেল ভাংচুরও করা হয়। পরে তাকে একটি গাছের সাথে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম ঘটনা ভিন্নখাতে প্রভাবিত করা জন্য সড়ক অবরোধের নাটক সৃষ্টি করেন এবং মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
প্রিন্স এডওয়ার্ড মাংসাং বলেন, আমি নির্যাতনের শিকার হলেও কোন চিকিৎসা করাতে পারিনি। জামিনে এসে চিকিৎসা করি। ঘটনার বিচার চেয়ে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে মামলা নেয়া হয়নি। পরে টাঙ্গাইল আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করি। আমি নির্যাতনের ক্ষতিপূরণ ও বিচার চাই এবং দোষী চেয়ারম্যানের অপসারণ চাই।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আবিমা গারো ইয়ুথ এসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব শ্যামল মানখিন, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি লিংকন দিব্রা, গারো স্ট্রডেন্ট ইউনিয়ন মধুপুর শাখার সভাপতি ইব্রীয় মানখিন প্রমুখ।
গত ২৪ আগষ্ট মধুপুরের ২৫ মাইল এলাকায় এর প্রতিবাদে মধুপুরের আাদিবাসী কয়েকটি ছাত্র সংগঠন একটি মানববন্ধন করেন এ ঘটনার বিচার চেয়ে।