বাংলা হেডলাইনস সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: পরিশ্রমই সৌভাগ্যের চাবিকাঠি আর সাফল্যও বয়ে আনে। জন্মগতভাবে দুই হাত ও একটি পা না থাকা শারীরিক প্রতিবন্ধী ফজলু এমন সাফল্য জয় করে পা দিয়ে লিখেই এবার এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।
হাল না ছাড়া প্রতিবন্ধী ফজলু সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার চরগোপালপুর গ্রামের দিনমজুর সাহেব আলীর ছেলে। শারিরীক প্রতিবন্ধী হয়ে এমন কষ্টেও সে প্রায় ৩ কিলোমিটার হেঁটে স্থানীয় মিটুয়ানী হাই স্কুলে লেখাপড়া করে। তাকে স্কুলে নিয়ে যেত ছোট বোন আসমা। ওই স্কুল থেকে ফজলু এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৩.৫৬ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। এরপর সে স্থানীয় দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় ২.৭৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। সেইসাথে তার বোন আসমাও এইচএসসিতে জিপিএ ৩.৩৩ পেয়েছে।
তার বাবা সাংবাদিকদের বলেন, দিনমজুরির কাজ করে ৯ সদস্যের কোনো রকমভাবে সংসার চালাই। এরমধ্যে ওই ২ ছেলে মেয়েকেও পড়াশোনার যোগান দিতে হয়েছে।
আর্থিক সংকটে তাদের প্রাইভেট পড়ানো সম্ভব হয়নি। তবে ফজলুর নামে একটি প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড রয়েছে। এ টাকা দিয়ে কোনরকম ওর লেখাপড়ার খরচ চলতো। সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাসের সহযোগিতায় ২০১৭ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে ৭৬ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। এ টাকা দিয়ে তাদের লেখাপড়ায় খরচ করা হয়েছে। এ কষ্টের মাঝেও ছেলে মেয়ে পরীক্ষায় যে ফলাফল করেছে তাতেই খুশি এবং বিত্তশালীদের আর্থিক সহযোগিতা পেলে তাদের লেখাপড়া চালিয়ে যাবো।
দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদ রানা বলেন, ফজলু ছাত্র হিসেবে ভালো। এক পা দিয়ে লিখে তার এ ফলাফলে আমরা সবাই খুশি হয়েছি এবং তার লেখাপড়ায় সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।