বাংলা হেডলাইনসঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শুক্রবার রাজধানীতে দলের দুদিনব্যাপী ২১তম জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধন কালে বলেন জাতির পিতা যে স্বপ্ন দেখেছেন ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত, উন্নত, সমৃদ্ধ সোনার বাংলা আমরা সেই সোনার বাংলা ইনশাল্লাহ গড়ে তুলবো এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা, এটাই আমাদের লক্ষ্য।
শেখ হাসিনা আজ বিকেল সোয়া ৩ টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনের উদ্বোধন করে উদ্বোধনী ভাষণে বলেন বাংলার মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর কেউ ছিনিমিনি খেলতে পারবে না।
তিনি সম্মেলন শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত মুলতবী করেন। সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশন রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টটিউশনে সকাল সাড়ে ১০ টায় অনুষ্ঠিত হবে ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন আমরা ২০০৯ থেকে ২০১৯ আজ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। মাত্র একদশক। এই একদশকের মধ্যে আজকে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আজকে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, দারিদ্রের হার আমরা ২০.৫ ভাগে নামিয়ে এনেছি। আজকে বাংলাদেশকে জাতির পিতা যেখানে স্বল্প উন্নত দেশে রেখেছেন আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমরা উন্নীত হয়েছি । এটা আমাদের ধরে রাখতে হবে। আমাদের লক্ষ্য সামনে অনেক দুর এগিয়ে যাওয়া। জাতির পিতা এই জাতিকে চেয়েছিলেন ক্ষুধামুক্ত দারিদ্রমুক্ত উন্নত্ সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে গড়ে তোলা । সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি। আমরা তাঁর নীতিমালা অনুসরণ করে এগিয়ে যাচ্ছি বলেই বাংলাদেশকে আমরা উন্নত করতে পারছি। বাংলাদেশ আজকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে এটাই আমরা চাই।
শেখ হসিনা বলেন বাংলাদেশ অনেক আগেই উন্নত সমৃদ্ধ হতে পারতো কিন্তু তা হতে পারে নাই । পারে নাই কেন ১৫ই আগস্ট।
তিনি বলেন জাতির পিতাকে নির্মম ভাবে হত্যা করে বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে অনেক দূরে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। এরপর ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকারে আসে। আমরা জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। তারপর আবার আঘাত আসে। আট বছর আমরা ক্ষমতার বাইরে থাকি। এরপর আবার আমরা ২০০৮ নির্বাচনে জয়ী হই। বিপুলভাবে জনগণ আমাদের ভোট দেয়। বিএনপি যে সংগঠনটি ঐ জিয়াউর রহমান একদিকে সেনাপ্রধান, জাতির পিতার হত্যার ষড়যন্ত্রের সাথে যে জড়িত ছিল এবং যে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে ক্ষমতা অবৈধভাবে দখল করলো সংবিধান লঙ্ঘন করে এবং এ দেশটাকে একাবারে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলো।
আওয়মী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন আওয়ামী লীগের উপর আঘাত বার বার এসেছে। কিন্তু সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশটাকে ফিরিয়ে আনা এই কঠিন দায়িত্বটা আওয়ামী লীগ যখন সরকারে আসে তখনই একমাত্র করা সম্ভব হয়। কিন্তু আবার ২০০১ এ যখন বিএনপি ক্ষমতায় আসে, বিএনপি হচ্ছে ক্ষমতা দখল করার পর একটা মিলিটারি ডিক্টেটর ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে যে দলের সৃষ্টি করেছিল সেই জাতীয় দল। তারা দেশের জন্য কোন কল্যাণ করতে পারে না। যে কারণে আমরা দেখি ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল দুর্নীতিতে বাংলাদেশ পাঁচ বার চ্যাম্পিয়ন , বিশ্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ, মানিলন্ডারিং, অস্ত্র চোরাকারবারি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা, দুই জন সংসদ সদস্য হত্যা সহ বিভিন্ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অত্যাচার।
তিনি বলেন ২০০১ সালের অক্টোবর ১ তারিখে নির্বাচন হয়েছিল, তিন তারিখ থেকে শুরু হলো তাদের তাণ্ডব অত্যাচার, নির্যাতন।