বাংলা হেডলাইনস: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বারবার ইরানের সামরিক শক্তি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে আসলেও মার্কিন গোয়েন্দাদের মূল্যায়ন বলছে ভিন্ন কথা।
গোপন এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী। মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস এই গোয়েন্দা মূল্যায়ন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মে মাসের শুরুর দিকের ওই গোয়েন্দা মূল্যায়নে দেখা গেছে, ইরান তার বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ বা কার্যক্ষমতা ফিরে পেয়েছে, যার মধ্যে আছে হরমুজ প্রণালি বরাবর অবস্থিত ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিই।
গোপন এই গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে জানেন এমন মানুষদের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, এখনও ইরানের প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার ও ভ্রাম্যমাণ উৎক্ষেপণ যন্ত্র অক্ষত আছে।
গোয়েন্দা মূল্যায়নে আরও দেখা গেছে, ইরানজুড়ে মাটির নিচে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এবং উৎক্ষেপণ ঘাঁটির প্রায় ৯০ শতাংশই এখন আংশিক বা পুরোপুরি সচল।
তবে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস এই গোয়েন্দা তথ্য নাকচ করেছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবিই পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
ওয়েলস বলেন, ইরান সরকার জানে যে তাদের ‘বর্তমান পরিস্থিতি টেকসই নয়’। যারা ভাবছেন, ইরান সামরিক শক্তি পুনরুদ্ধার করেছে, তারা হয় বিভ্রান্তিতে আছেন, না হয় ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর হয়ে কথা বলছেন।
পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সেক্রেটারি জোয়েল ভালদেজও সংবাদমাধ্যমের কড়া সমালোচনা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “অপারেশন এপিক ফিউরিকে এক ঐতিহাসিক অর্জনের বদলে অন্যভাবে তুলে ধরতে নিউ ইয়র্ক টাইমস ও অন্যান্যরা ইরানের জনসংযোগ কর্মকর্তার মতো কাজ করছে।”
গোয়েন্দা মূল্যায়ন সম্পর্কে যারা ওয়াকিবহাল তারা বলছেন, ইরানিরা চাইলে ঘাঁটির ভেতরে থাকা মোবাইল লঞ্চারগুলো দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র অন্যত্র সরিয়ে নিতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে তারা সরাসরি ওই স্থাপনাগুলোর লঞ্চপ্যাড থেকেই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে। সূত্র: গণমাধ্যম