বাংলা হেডলাইনস বগুড়া : বগুড়ার গাবতলীতে গণধর্ষণের শিকার এক বিউটিশিয়ান (১৯) মামলা করে বিপাকে পড়েছেন। পুলিশ প্রকাশ্যে চলাফেরাকারী আসামিদের গ্রেফতার না করায় তারা তাকে মামলা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের ভয়ে তিনি বাড়িতে ঠিকমত থাকতে পারছেন না; পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।
এজাহার সূত্র ও স্বজনরা জানান, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার চকসদু গ্রামের ওই বিউটিশিয়ান শহরে একটি পার্লারে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি কর্মস্থলে যাতায়াত কালে চকসদু উত্তরপাড়ার আব্দুল বাছেদের ছেলে আব্দুল হান্নান (৪০) ও মৃত আফছার আলীর প্রামানিকের ছেলে চাঁন মিয়া (৪৫) এবং শাজাহানপুর উপজেলার শ্মশানকান্দি উত্তরপাড়া গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে ফারুক হোসেন (২৫) তাকে কু-প্রস্তাব ও নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। গত ১১ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে তিনি সিএনজি অটো রিকশা থেকে চকসদু এলাকায় নামেন। এ সময় আব্দুল হান্নান, চাঁন মিয়া ও ফারুক হোসেন তাকে বাড়ি পৌঁছে দিতে চায়। এক পর্যায়ে তারা তাকে মুখ চেপে ধরে গামছা দিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর তাকে পাশেই জঙ্গলে তিনজন পালাক্রমে ধর্ষণ করে। শরীরে বিভিন্ন স্থানে নখের আঁচড় দিয়ে জখম করে। ধর্ষণের এক পর্যায়ে বিউটিশিয়ান অসুস্থ হয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা তাকে ফেলে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি বাড়িতে ফিরে মাকে ঘটনাটি জানান।
এ ঘটনায় গাবতলী থানায় মামলা করলে গেলে পুলিশ নেয়নি। বাধ্য হয়ে তিনি (বিউটিশিয়ান) গত ২০ নভেম্বর বগুড়ার দ্বিতীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে এটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করতে গাবতলী থানাকে নির্দেশ দেন। এছাড়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন বগুড়াকে তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে বলেন। গত ২৬ নভেম্বর থানায় মামলাটি রেকর্ড হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা করান।
আজ বৃহস্পতিবার বিকালে বিউটিশিয়ান অভিযোগ করেন, পুলিশ মামলা রেকর্ড করেও অজ্ঞাত কারণে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো আসামিদের গ্রেফতার করছেনা। ববং পুলিশ আসামিদের পক্ষ নিয়েছে। এ সুযোগে তিন আসামি মামলাটি তুলে নিতে তাকে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। বাড়িতে এসে তার মাকেও ভয় দেখিয়েছেন। আসামিদের ভয়ে তিনি বাড়িতে ঠিকমত থাকতে পারছেন না। পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই’র এসআই আকরাম হোসেন বাদির অভিযোগ দৃঢতার সাথে অস্বীকার করে বলেছেন, ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তারা এলাকায় না থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছেনা। তিনি আরো বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলার বিষয়ে কোন মন্তব্য করা সম্ভব নয়।