বাংলা হেডলাইনস রাঙ্গামাটি: সংস্কারে অভাবে দীর্ঘ সাত বছর ধরে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে রাঙ্গামাটি সরকারি পর্যটন কর্পোরেশনের অডিটোরিয়াম ভবনটি। এতে সরকারের ব্যাপক লোকসান গুনতে হচ্ছে দিনের পর দিন। আর সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। এই অবস্থায় পড়ে থাকলে অডিটোরিয়াম ভবনটি সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে হয়ে যেতে পারে বলে আশংকা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, পর্যটন প্রবেশ মুখেই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে রাঙ্গামাটি সরকারি পর্যটন কর্পোরেশন ও হলিডে কমপ্লেক্সে নির্মিত অডিটোরিয়াম ভবনটি। সামনে রাস্তা দিয়ে পর্যটনে আসা লোকজন ও যানবাহন চলাচল করলেও ভবনটির আশেপাশে জনশূন্য । বিশাল এলাকাজুড়ে নির্মিত এতবড় ভবনটি সম্পূর্ণ পরিত্যাক্ত ও অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে।
এ ব্যপারে পর্যটন কর্পোরেশন ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া জানান, পর্যটন কর্পোরেশন ও হলিডে কমপ্লেক্সের অডিটোরিয়াম ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল ১৯৮৭ সালে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য। আর ভবনটির ভেতরে আসন সংখ্যা করা হয়েছিল ১৮০জন। কিন্তু তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান পরিস্থিতির কারণে তখন অডিটোরিয়ামটি তেমন কোনো কাজে আসেনি। পরবর্তীতে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করলে সেখানে প্রচুর পরিমাণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভাসহ অন্যান্য অনুষ্ঠান আয়োজন সম্ভব হয়েছিল। এতে করে অডিটোরিয়ামের ভাড়ার মাধ্যমে যথেষ্ট রাজস্ব আয় হতো, যা দিয়ে নির্মাণ ব্যয়ের কিছু অর্থ উঠে আসে। পরে বেসরকারি একটি কোম্পানীকে চুক্তির মাধ্যমে ইজারা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা সঠিক ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করার কারণে অডিটোরিয়ামের ভেতরে মঞ্চ, সরঞ্জামাদি, আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক যন্ত্রসহ ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনা নষ্ট করে ফেলে। এতে করে ভবনের স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়। ফলে ২০১২ সাল হতে এই অডিটোরিয়াম ভবনটি পরিত্যাক্ত ও অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে করে রাজস্ব আয় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। তাই ভবনটি জরুরী ভিত্তিতে সংস্কার করে কিছু করা যায় কিনা ভেবে দেখা দরকার। আর অডিটোরিয়ামটি পরিত্যাক্ত হয়ে পড়ে থাকায় পর্যটন এলাকা হিসেবে কেউ কিছু বড় অনুষ্ঠান করতে চাইলে আমরা জায়গা দিতে পারি না। ভবনটি সংস্কার করা গেলে পর্যটন কমপ্লেক্সে রাজস্ব আয় আরও বাড়তো বলে মনে করেন তিনি।