বাংলা হেডলাইনস বগুড়া: বগুড়া শহীদ খোকন পার্কের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুতো-স্যান্ডেল পায়ে ওঠা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নামতে বলায় তারা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে।
বুধবার দুপুরের এ ঘটনার সময় একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। রক্তাক্ত একজনকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে ছাত্রদলের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে।বিকালে এ খবর পাঠানো পর্যন্ত মামলা হয়নি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু হাসান ও সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম সিদ্দিকী রিগ্যান জানান, তাদের কোন নেতাকর্মী জুতো পায়ে শহীদ মিনারে ওঠেনি এবং তারা কোন পুলিশকে মারধর করেননি। শুধু সামান্য বাকবিতন্ডা হয়েছিল। হয়রানি করতে তাদের মিথ্যা দোষারোপ করা হচ্ছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রদলের ৪১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে শহরে নবাববাড়ি সড়কে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ ছিল। বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী শহীদ খোকন পার্কে সমবেত হন। সদর আসনের এমপি ও জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এলে তারা মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে যাবেন। এ সময় বেশকিছু নেতাকর্মী জুতো-স্যান্ডেল পায়ে শহীদ মিনারে ওঠে শ্লোগান দিতে থাকেন। ওই এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী ভিতরে ঢুকে জুতো-স্যান্ডেল পায়ে থাকা নেতাকর্মীদের শহীদ মিনার থেকে নামতে অনুরোধ করেন। এতে নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে প্লাকার্ড বহনের লাঠি দিয়ে পুলিশের উপর হামলা করে। লাঠির আঘাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী, এএসআই আশরাফুল আলম ও কনস্টেবল পারভেজসহ ৫ জন আহত হন। হামলার পরপরই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে পালিয়ে যায়।
আহত কনস্টেবল পারভেজকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। হামলার সময় এক কনস্টেবলের হাতে থাকা রাইফেলের ট্রিগার খুলে পড়ে গেলে সেটি হারিয়ে গেছে। যদিও পুলিশ কর্মকর্তারা এর সত্যতা নিশ্চিত করেননি। সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান জানান, হামলার সাথে জড়িত থাকায় ছাত্রদলের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে জুতো-স্যান্ডেল পায়ে শহীদ মিনারে উঠে দলীয় স্লোগান এবং পুলিশকে মারধর করার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ঘটনায় জড়িত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন।