বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন সুষ্ঠু না হলে কঠোর আন্দলনের হুশিয়ারি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্য সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে: রিজভী জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠায় জাপানকে সহযোগিতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ারে যেতে পারে পুলিশ: আইজিপি ডিসেম্বরে হাসিনার ফেরার খবরে অস্থিরতার সুযোগ দেবে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এখনো ভালো লক্ষণ দেখছি না : জামায়াত আমির সৌদি আরবে কারাবন্দি ৭৫০০ বাংলাদেশি : শামা ওবায়েদ মোংলা বন্দর-সুন্দরবন ও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর সাজেকে গোলাগুলি।। ২,৯৩৩ পর্যটককে সরিয়ে নিল নিরাপত্তা বাহিনী

মানিকগঞ্জে পরকিয়ার জেরে ভাবী ও ভাতিজাকে খুন

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৬৯৫ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় মা ও শিশু পুত্র জোড়া খুনের একমাত্র আসামি নিহত পারভিন বেগমের দেবর সোলাইমান হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত সোলাইমান হোসেন তার ভাবী পারভিন আক্তার ও ভাতিজা আবদুর নুরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ সিনিয়ন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত ৯ এর বিচারক জান্নাতুল রাফিন সুলতান কাছে আসামী সোলাইমান হোসেন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আসামি সোলাইমানকে রাতেই আদালত থেকে জেলা হাজতে পাঠানো হয়।

মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে আসামি সোলাইমান হোসেন স্বীকারোক্তি করেছেন। স্বীকারোক্তি অনুয়ায়ী আসামী সোলাইমান হোসেনের সাথে তার মেঝো ভাই মজনু মিয়ার স্ত্রী পারভীন বেগমের পরকিয়ার সম্পর্ক তৈরি হয়। গত তিন মাস আগে সোলাইমান মালয়েশিয়া থেকে পড়াশুনা করে দেশে আসে। এরপর ভাবী পারভীনের সাথে পরকিয়ার সম্পর্ক আরো গভীর হয়ে পড়ে। ভাবী পারভীন আক্তার, সোলাইমানকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। ঘটনার দিন ৮ জানুয়ারি রাত ১০ টার দিকে সোলাইমান হোসেন ভাবী পারভীনের ঘরে ঢুকে। তাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্কের এক পর্যায়ে পারভীন  সোলাইমানকে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করে।

সোলাইমান দুই ভাতিজা আব্দুল করিম (১০) ও আব্দুল নুর (৬) এর কথা চিন্তা করে বিয়ের জন্য রাজি হয়নি। বিয়েতে রাজি না হওয়াতে পারভীন হুমকি দেন তার নিজের দুই ছেলে, স্বামী ও সোলাইমানকে হত্যা করা হবে। এই নিয়ে দুই জনের মধ্যে কথাকাটি ও উত্তেজনার সৃস্টি হয়। এসময় সোলাইমান ঘরে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে ভাবী পারভীনের গলায় ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। ওই সময় ভাতিজা আব্দুর নুর জেগে উঠলে তাকেও চাকু দিয়ে হত্যা করে। দুই জনের হত্য নিশ্চিত করে রক্তমাখা চাকু ও তার পরিহিত কাপড় চোপড় ধুয়ে ফেলে। এরপর নিজ ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।

নিহত নুরের দাদা ক্বারী আব্দুল রহমান জানান, ছেলে সোলাইমানের মতো এ গ্রামে একটি ছেলে নেই। সে কোন নেশা করে না। পুলিশ তাকে ফাঁসানোর জন্য ধরে নিয়ে গেছে। তার সাথে আমার পরিবারের কাউকে দেখা করতে দেয় না। সে আরো জানায়, তার ছেলে মালয়েশিয়া থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং লেখাপড়া করে কিছুদিন ধরে সে ছুটি নিয়ে বাড়ি এসেছে। বাড়িতে বহিরাগত কেউ আসে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, মাঝে মধ্যে অপরিচিত একাধিক ছেলে আসত বৌমার কাছে। কিন্তু তাদের আমি চিনি না।

ক্বারী আব্দুল রহমানের স্ত্রী রোমেনা বেগম জানায়, আমার ছেলের বৌ পর্দা করে থাকতো। সে হাত পায়ে মোজা পরে বাহিরে বের হতো। আত্মীয় স্বজন ছাড়া আমার বাড়িতে কেউ আসতো না। কে তার নাতী ও ছেলের বৌকে হত্যা করেছে জানতে চাইলে সে বলে আমি জানি না।

উল্লেখ্য, সাটুরিয়ার উত্তর কাউন্নারা গ্রামের সৌদি প্রবাসি মজনুর স্ত্রী পারভীন আক্তার ও তার ছয় বছরের ছেলে নুর হোসেন তাদের দুতলা ফ্লাট বাসায় বুধবার রাতের খাবার খেয়ে ঘুমায়। বৃহস্পতিবার সকালে নুর মাদ্রাসায় মকতব পরতে না যাওয়ায় আশেপাশের সহপাঠিরা তাকে ডাকতে এলে নুরের দাদী রোমেনা বেগম নাতিকে ডাকতে যায়। ডাকতে গিয়ে দেখেন ঘরের দরজা খোলা। ভিতরে প্রবেশ করে দেখেন খাটের উপর তার নাতি নুর ও তার ছেলের স্ত্রী পারভীনে নিথর দেহ বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তার আত্মচিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে । পরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে আসে।  পুলিশ মা ও ছেলে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি তদন্ত আবুল কালাম (পিপিএম) জানান, সাটুরিয়াতে মা ছেলে জোড়া খুনের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় হত্যাকান্ডে সাথে সোলাইমান জড়িত। তাকে বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেফতার করা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসবাদের সোলাইমান হত্যাকান্ডের সাথে সে জড়িত বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করে। শুক্রবার দুপুরে আসামী সোলাইমানকে আদালতে তোলা হয়। মানিকগঞ্জ সিনিয়ন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত ৯ এর বিচারক জান্নাতুল রাফিন সুলতান কাছে। মামলার এক মাত্র আসামী সোলাইমান হোসেন ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এই ঘটনায় নিহত পারভীনের মা মজিরন বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এদিকে সাটুরিয়া থানা পুলিশ জোড়া খুনের আলামত সংগ্রহ করছে। ময়না তদন্ত রির্পোট হাতে পেলে বুঝা যাবে সে ধর্ষিত হয়েছে কি না। বৃহস্পতিবার রাতে মা ও ছেলেকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com