বাংলা হেডলাইনস রাঙ্গামাটি: দেশী-বিদেশী পর্যটকদের দর্শনীয় স্থানের মধ্যে অন্যতম প্রাকৃতিক সৌর্ন্দযের লীলাভূমি পাহাড়ি কন্যা পর্যটন শহর রাঙ্গামাটি।
১০টি উপজেলা নিয়ে গঠিত রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার বিশাল অংশ জুড়েই রয়েছে এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম লেক কাপ্তাই হ্রদ। এছাড়া রাঙ্গামাটির শহর সংলগ্ন দর্শনীয় ফুরোমন পাহাড়, পাহাড়ের মেঘের রাজ্য সাজেক ভ্যালিসহ অনেক দর্শনীয় স্থান থাকলে ও বিভিন্ন সমস্যার কারণে সফলভাবে এগুচ্ছে না রাঙ্গামাটির পর্যটন শিল্প। শীতের শুরু থেকে বছরের ৫ মাস পর্যটন ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টদের ব্যবসা ভালো চললে ও বছরের বাকী ৭মাস অনেকটা অলস সময় কাটাতে হয় বলে জানালেন পর্যটন ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টরা।
পাহাড়ে পর্যটন সেক্টরের উন্নয়নসহ এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন বলে মনে করেন, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশিদ। তিনি বলেন, এখানে পৌরসভা, জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসন এবং পর্যটন কর্পোরেশন রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা যদি এখানে সমন্বিতভাবে কাজ করি একদিকে এ রাঙ্গামাটি শহরকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি পর্যটকদের আকর্ষনীয় করার মতো এখানে অনেক কিছুই করা সম্ভব। এখন প্রয়োজন এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে সকলকে এক জায়গায় এসে সমন্বিতভাবে কাজ করা।

পর্যটন শিল্পে ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা পর্যটন এলাকা পাহাড়ের রুপের রাণী রাঙ্গামাটির বিষয়ে রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর কবীর বলেন, রুপের রাণী রাঙ্গামাটি সারা দেশের পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ
এলাকা।
তিনি বলেন, এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে এখানে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, রাঙ্গামাটিতে পর্যটকেরা সবসময় আসতে পারেন, কিন্তু তারপরেও দেখা যায় বছরের সবসময় এখানে পর্যটকদের বেড়ানোর জন্য আসেনা।
পুলিশ সুপার বলেন, বর্ষা মৌসুমে রাঙ্গামাটিকে সবচেয়ে আকর্ষনীয় লাগলেও অনেক সময় দেখা যায় বর্ষা মৌসুমে অনেক সময় পাহাড় ধসসহ বিভিন্ন কথা বলে পর্যটকদের অনাগ্রহী করে তোলা হয়। এজন্য তিনি এসব
বিষয় নিয়ে বিভ্রান্ত ছড়ানো বন্ধ করাসহ মিডিয়ার মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর মধ্য দিয়ে পর্যটন শহর রাঙ্গামাটিকে দেশ বিদেশের মানুষের মাঝে তুলে ধরার জন্য সকলকে আহবান জানান।
আলমগীর কবীর পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করার পর রাঙ্গামাটি পুলিশ বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন পর্যটন এলাকা পলওয়ে পার্কের ব্যাপক উন্নয়ন করে সকলের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি।
বছরের বেশীরভাগ সময়ই পর্যটন ব্যবসা মন্দার বিষয়টি
স্বীকার করে রাঙ্গামাটি পর্যটন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া জানান, ৫মাস ব্যবসা করে বাকী ৭ মাস কম ব্যবসা করে পর্যটনকে এগিয়ে নেয়া খুবই মুশকিল, এ অবস্থার উত্তোরন করতে হবে। রাঙ্গামাটি
পর্যটনে যেসব রাইডের প্রয়োজন সেসব রাইডগুলোসহ শিশুবিনোদন কোন রাইড আমরা এখনো গড়ে তুলতে পারিনি, পর্যটনে যেসব দালান আছে সে সবের পাশাপাশি পর্যটক বান্ধব নিরিবিলি নৈশর্গিক পরিবেশ গড়ে তোলা খুবই জরুরী ।
রাঙ্গামাটি টুরিষ্ট বোট-মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মোঃ রমজান আলী বলেন, পর্যটন এলাকায় আগত পর্যটকদের নির্বিঘ্নে চলাচল করতে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিষ্ট পুলিশ সর্বাত্মভাবে সহায়তা করে যাচ্ছে। তবে বছরের মাত্র কয়েকটি মাস তাদের ব্যবসা ভালো হলেও বেশিরভাগ সময়ই এর সাথে সংশ্লিষ্টদের বেকার থাকতে হয় বলে জানান তিনি। এজন্য এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে ও পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে দ্রুত এখানে উন্নয়ন কার্যক্রম শুরুর আহবান জানান তিনি।
বিশাল এলাকাজুড়ে অবস্থিত পর্যটন কমপ্লেক্স এলাকায় দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন না হলে ও রাঙ্গামাটিতে সেনাবাহিনী, পুলিশ বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটন খাতে কিছু দৃশ্যমান উন্নয়ন করা হয়েছে।এসব স্থানেই মূলত পর্যটকদের বেশি ভিড়।