বাংলা হেডলাইনস সিরাজগঞ্জ: আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের ৭১ নেতাকর্মীকে আসামি করে সংশ্লিষ্ট থানায় এই দুটি মামলা দায়ের করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ পৌর এলাকার ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। সিরাজগঞ্জ সদর থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, ছাত্রলীগ নেতা শুভ আহম্মেদকে মারপিটের ঘটনায় তার বড় ভাই বকুল আহম্মেদ বাদী হয়ে ২ ফেব্রুয়ারি রাতে ৫১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১৫/২০জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনাস্থল এলাকা থেকে ওই ৭জনকে গ্রেফতার করা হয়।
আরেক মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবু জাফর জানান, ছাত্রলীগ নেতা মানিক মাহমুদ আহত হওয়ার ঘটনায় তার চাচাতো ভাই নুরনবী হাসান রতন বাদী হয়ে ২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে জেলা ছাত্রলীগের নেতাসহ ২০জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
তবে এ মামলায় এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি। উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার একডালা মহল্লায় শনিবার বিকেলে ৯নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের একটি অংশ সভা করে। ওই সভার বিষয়টি ওয়ার্ড কমিটির সাধারন সম্পাদক অবগত ছিল না। এ কারণে সে সভাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করে।
এ নিয়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটে। এতে মানিক মাহমুদসহ কমপক্ষে ৫জন আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আহসান হাবিব খোকা রোববার বিকেলে শহরে মিছিল বের করে। এ মিছিলের পরই অপর পক্ষের নেতাকর্মীরা শহরে পাল্টা মিছিল বের করে। এরই একপর্যায়ে শহরের খেদন সর্দারের মোড়ে প্রতিপক্ষ দু’গ্রুপের সংঘর্ষহয়। এতে জেলা ছাত্রলীগ নেতা শুভ আহম্মেদ ফালার আঘাতে গুরুতর আহত হন। তিনি বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দু’গ্রুপের পাল্টাপাল্টি মিছিল চলার সময়ই রোববার বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা জরুরী সভায় মিলিত হন। উভয় গ্রুপের উত্তেজনায় গোটা শহর থমথমে বিরাজ করে। সভা শেষে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে মারপিটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে জেলা আওয়ামীলীগের সভায় যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ সকল অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম আগামী ১৫দিনের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্বান্ত নেয়া হয়েছে। বিষয়টির অনুমোদন নেয়ার জন্য স্ব-স্ব সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিকে চিঠি দেয়া হবে। পাশাপাশি উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও প্রশানসনিক ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্বান্ত নেয়া হয়েছে।
এদিকে পুলিশ সুপার মো: হাসিবুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, আইনশৃখংলা পরিস্থিতির যারা বিঘ্ন ঘটাবে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধেই অ্যাকশন নেবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরের মোড়ে মোড়ে ও প্রধান সড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং টহল জোরদার করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।