বাংলা হেডলাইনস সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জে শহীদ এম.মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে কোভিড-১৯ শনাক্তকারী পলিমারেজ চেইন রি-অ্যাকশন (পিসিআর) মেশিন ১০ মাস আগে কেনা হয়েছিল। যা এখনো প্যাকেটবন্দি।
শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ডাক্তারি সরঞ্জামসহ রোগীদের কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের চিকিৎসায় ৮টি ভেন্টিলেটর যন্ত্রও একই সঙ্গে শত কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা হয়েছিল।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এক কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে পিসিআর মেশিন গত ১০ মাস আগে কেনা হলেও আজও তা ব্যবহার করা হয়নি।
কলেজ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে তিনদিন আগে নতুন আরেকটি পিসিআর মেশিনের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা সারঞ্জামাদিসহ শহীদ এম.মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের প্রায় আড়াই’শ কোটি টাকা ব্যয়ে মালামাল ক্রয়ে নানাবিধ দুর্নীতির খোঁজে গত বছর তদন্তে নামে দুদক।
কিন্তু অজ্ঞাত কারণে প্যাকেটবন্দি এসব চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহারে বিশেষ ছাড় দেয় দুদক।
কিন্তু চূড়ান্ত তদন্ত সম্পন্ন হবার আগে দুদকের ছাড়ের পরও পিসিআর মেশিনসহ প্যাকেটবন্দি মালামাল ব্যবহার তো দূরের কথা, উল্টো স্বাস্থ্য/শিক্ষা অধিদপ্তরে নতুন চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, চলমান করোনায় জেনারেল হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের ১৩টি ভেন্টিলেটর ব্যবহারে কার্যকরী ব্যবস্থা এখনও নেওয়া হয়নি।
কলেজ প্রকল্প পরিচালক ডাঃ কৃষ্ণ কুমার পাল বলেন, ১০ মাস আগে পিসিআর মেশিন অধ্যক্ষ নিজেই তার সার্ভে কমিটির দ্বারা বুঝে নেন। তারপরেও অধ্যক্ষ কর্তৃক অধিদপ্তরে নতুন আরেকটির চাহিদা পাঠনোর বিষয়টি বোধগম্য নয়। ৮টি ভেন্টিলেটরও কলেজেই রয়েছে। অক্সিজেন প্লান্ট ও বায়ুমান যন্ত্র সেট করলে ভেন্টিলেটর সমুহ ব্যবহার করা যাবে।
প্যাকেটবন্দি পিসিআর ও ভেন্টিলেটর ব্যবহারের দুদকের কোনই আপত্তি নেই বলেও তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
অধ্যক্ষ ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, কলেজ প্রকল্পের মাধ্যমে সংগৃহিত পিসিআর মেশিনটির বিষয় আমি অবগত নই। আর থাকলেও সেটি প্রকল্পের মাধ্যমে কেনা। সেটি ব্যবহার করতে গেলে নতুন করে বুঝে নেওয়া বা অনুমতি প্রাপ্তিতে বিড়ম্বনা রয়েছে। যে কারণে নতুন পিসিআর মেশিনের জন্য গত ২৬ এপ্রিল স্বাস্থ্য/শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর চাহিদা পাঠানো হয়েছে।
অপরদিকে, জেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে গত দু’বছর আগে ৫টি ভেন্টিলেটর দেওয়া হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে। চলমান করোনা সংকটে রোগীদের কৃত্রিম শ্বাস প্রশ্বাসের চিকিৎসায় এ সব ভেন্টিলেরটর চালুর উদ্যোগ নেই।
সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না এমপি বলেন, সিরাজগঞ্জসহ অনেক স্থানেই ভেন্টিলেটর বা পিসিআরসহ গুরত্বপূর্ণ অনেক দামি দামি যন্ত্রপাতি অপরিকল্পিতভাবে সরবরাহ করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জের প্যকেটবন্দি ভেন্টিলেটর ও পিসিআর মেশিন দ্রুত চালুর বিষয়ে মঙ্গলবার অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।