বাংলা হেডলাইনস বগুড়া : বগুড়ার শাজাহানপুরে মীম আক্তার (১৯) নামে এক গার্মেন্টস কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে উপজেলার গন্ডগ্রাম বুড়িতলায় একটি মাঠ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি ঢাকা থেকে বাসে বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া এলাকায় তার মায়ের কাছে আসছিলেন।
ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা বৃহস্পতিবার রাতে তাকে ওই স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। শাজাহানপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আম্বার হোসেন জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
পুলিশ ও স্বজনারা জানান, মীম আক্তার বগুড়ার কাহালু উপজেলার কচুয়া গ্রামের মিন্টু মিয়ার মেয়ে। তিনি ঢাকায় গ্রীন লাইফ নীট কম্পোজিট লিমিটেডে এমব্রয়ডারী বিভাগের সহকারি অপারেটর ছিলেন। তার মা খায়রুন্নাহার শহরের ঠনঠনিয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।
তিনি (মা) জানান, তার বড় মেয়ে মীম এক বছর আগে ঢাকার আশুলিয়ার একটি গার্মেন্টসে কাজ নেয়। ওই চাকরি করে তিনি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষন করতেন। চাকরির সুবাধে রংপুরের রিপনের সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠলে প্রায় পাঁচমাস আগে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর রিপন তাকে চাকরি করতে রাজি না থাকায় তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়।
গত ৩ জুন রিপন স্ত্রী মীমকে তালাক দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেন। বাধ্য হয়ে তিনি (মীম) বগুড়ায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি রংপুরগামী বাসে বগুড়ার দিকে রওনা দেন।
সাবেক স্বামী নিজের ফোন কেড়ে নেওয়ায় তিনি সুপারভাইজারের ফোনে মায়ের সাথে যোগাযোগ করেন। রাত ১২টার পেরিয়ে গেলেও মীম বাড়িতে না ফেরায় মা ওই বাসের সুপারভাইজারকে ফোন দেন।
তখন সুপারভাইজার জানান, তিনি মীমকে শাজাহানপুরের বনানী মোড়ে নামিয়ে দেবার পর ঠনঠনিয়া যাবার জন্য রিকশায় তুলে দেন। মা সারারাত অপেক্ষা করলেও মীম বাড়ি ফেরেননি।
এদিকে শুক্রবার সকালে শাজাহানপুর উপজেলার গন্ডগ্রাম বুড়িতলায় একটি মাঠে এক তরুণীর লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। নিহতের গলা ও মুখে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
খবর পেয়ে শাজাহানপুর থানা পুলিশ সেখানে যায়। কাছে থাকা গার্মেন্টসের আইডি কার্ড দেখে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়। পরে মা খায়রুন্নাহার মেয়ের লাশ সনাক্ত করেন।
লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা গার্মেন্টস কর্মী মীম আক্তারকে ওই স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে। এরপরও তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।