বাংলা হেডলাইনস বগুড়া : বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের উপনির্বাচন আগামী ১৪ জুলাই মঙ্গলবার।
সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে প্রার্থীদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে নির্বাচনী এলাকা। ভোটারদের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মন জয় করার চেষ্টা চলছে।
করোনা ও বন্যার অজুহাতে বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ায় নির্বাচন তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক না হবার আশংকা করা হচ্ছে।
এখন নৌকা প্রার্থীর সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মূল প্রতিদন্দ্বিতা হবে। এলাকায় বসবাস করেন না এমন প্রার্থীদের ‘বসন্তের কোকিল’ আখ্যায়িত করে তাদের বয়কোটের চিন্তাভাবনা করছেন অধিকাংশ ভোটার।
প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রয়াত সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের স্ত্রী সাহাদারা মান্নান শিল্পী (নৌকা), বিএনপি প্রার্থী একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির অধ্যক্ষ মোকছেদুল আলম (লাঙ্গল), প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের মো: রনি (বাঘ), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নজরুল ইসলাম (বটগাছ) ও স্বতন্ত্র ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজ (ট্রাক)।
সরেজমিন ও এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপি উপনির্বাচন বয়কট করায় বগুড়া-১ আসনে ভোটারদের মধ্যে আমেজ কমে গেছে।
রোদ ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রার্থী সাহাদারা মান্নান, ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজ, মোকছেদুল আলম, নজরুল ইসলাম ও মো: রনি সাধ্যমত গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও লিফলেট বিতরণ করছেন।
মোটর সাইকেল, মাইক্রোবাস নিয়ে এলাকায় শোডাউন করা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী তার স্বামীর অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ ও নতুন নতুন কাজ করার ঘোষণা দিচ্ছেন।
আবার অন্যরা নির্বাচিত হলে দুটি উপজেলায় বাঙালি ও যমুনা নদীর ভাঙনরোধ, বিভিন্ন উন্নয়ন ও মাদক এবং সন্ত্রাস বিরোধী আসন উপহার দেবার আশ্বাস দিচ্ছেন।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাহাদারা মান্নান বলেন, তার স্বামী আবদুল মান্নান পরপর তিনবার এ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছেন।
তাই তিনি নির্বাচিত হলে মান্নানের অসম্পূর্ণ কাজগুলো শেষ করবেন। এছাড়া সাধ্যমত উন্নয়ন কাজ করবেন।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম বলেছেন, তিনি নির্বাচিত হলে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন।
গাবতলী থেকে সারিয়াকান্দি ও ধুনট হয়ে যমুনা সেতু পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন, বগুড়ায় বিমান বন্দর চালু, যমুনা ও বাঙালি নদীর তীর সংরক্ষণ ও নদী ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, সারিয়াকান্দিতে সার কারখানা, নৌবন্দর স্থাপনসহ নানা উন্নয়ন করবেন।
জাতীয়পার্টির প্রার্থী অধ্যক্ষ মোকছেদুল আলম বলেছেন, তিনি নির্বাচিত হলে, যোগাযোগ ও শিক্ষাখাতকে গুরুত্ব দেবেন। নদী ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। চরাঞ্চলের প্রতিটি ঘরে ঘরে সৌর বিদ্যুতের আলো পৌছেদিবেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজ বলেন, নির্বাচিত হলে রাক্ষুসী
যমুনা ও বাঙালি নদীর ভাঙন থেকে সোনাতলা-সারিয়াকান্দিবাসীকে রক্ষা করার জন্য তিনি বলিষ্ঠ ভুমিকা রাখবেন। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবেন।
তবে অধিকাংশ ভোটাররা বলছেন, তারা উন্নয়নের সাথে আছেন এবং থাকবেন।
এদিকে বিএনপি সমর্থিত ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা ভোটদানে বিরত থাকবেন। আর কেন্দ্রে গেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ভোট দিবেন।
জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মাহবুব আলম শাহ্ জানান, নির্বাচন গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। ১২৪টি কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৩০ হাজার ৮৯২ জন।
গত ১৮ জানুয়ারি সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। ২৯ মার্চ উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেও করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল।