বাংলা হেডলাইনস সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় ইউসুফ আলী (৩০) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
পুলিশ কনস্টেবল উল্লাপাড়া উপজেলার দত্তখারুয়া গ্রামের ইয়াছিল আলী মেধার ছেলে ও ডিএমপির পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নাসিমার বড় ভাই আব্দুল হামিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি
জানান, আমি ও আমার পরিবারের লোকজন শাহজাদপুর উপজেলার ফরিদ পাঙ্গাসী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। প্রায় ১০ বছর আগে ছোট বোন নাসিমা খাতুন রিয়াকে (২৫) ৯ লাখ ১ হাজার টাকার কাবিন মূলে ওই পুলিশ কনস্টেবলের সাথে বিয়ে দেয়া হয়।
প্রায় ৫ বছর আগে নাসিমা এক সন্তানের জননী হওয়ার পর থেকে পুলিশ কনস্টেবল ইউসুফ আলী টাঙ্গাইলের এক যুবতী নার্সের সাথে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। এ অবৈধ প্রেম সম্পর্কের প্রতিবাদ করলে নাসিমা নির্যাতনের শিকার হয়।
এ বিষয়ে পারিবারিকভাবে একাধিক সালিশ দরবার হলেও নির্যাতন থামেনি। পরে এ বিষয়ে স্বামীসহ ৩ ভাশুড়েরবিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলাটি এক আপোষ মীমাংসায় তুলে নেয়া হয়।
প্রায় ৬ মাস ধরে সুখে শান্তিতে ঘর সংসার করলেও তাকে আবার নির্যাতন শুরু করে। এক পর্যায়ে চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল নাসিমাকে বিনা কারণে অমানবিক নির্যাতন করে ঘরের মেঝেতে ফেলে রাখে।
পরদিন উল্লাপাড়া থানা পুলিশ তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ব্যাপারে ২৮ এপ্রিল নাসিমা বাদী হয়ে স্বামীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করে।
পুলিশ এ মামলার তদন্ত শেষে স্বামীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আদালতে অভিযোগ দাখিল করে।
পুলিশ কনস্টেবল ইউসুফ আলী গতকাল বৃহস্পতিবার নারী শিশু নির্যাতন দমন আদালতে জামিন প্রার্থনা করে হাজির হন। এ মামলার শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।