শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ০৫:১৬ অপরাহ্ন

বগুড়ার ধুনটে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আ’লীগের দু’পক্ষে সংঘর্ষ

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ২৭ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়া ধুনটে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে।

এক পক্ষে বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য হবিবর রহমান ও তার লোকজন এবং অন্য পক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি টিআই নুরুন্নবী তারিক ও তার সমর্থকরা।

শনিবার দুপুরে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে চার পুলিশসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শর্টগান দিয়ে ছয় রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্র জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও নানা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে সরকার দলীয় এমপি হাবিবর রহমান, তার ছেলে ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আসিফ ইকবাল সনি ও তার লোকজনের সাথে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ টিআইএম নুরুন্নবী তারিখ, সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হাই খোকন ও তার লোকজনের বিরোধ চলে আসছিল।

গত ৩০ জানুয়ারি ধুনট পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তারিক বিদ্রোহী প্রার্থী এজিএম বাদশাহ এর কাছে পরাজিত হন। তার এ ভরাডুবির জন্য এমপি, তার ছেলে সহ-সভাপতি সনি ও যুগ্ম সম্পাদক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মহসিন আলমকে দায়ি করা হয়। ১ ফেব্রুয়ারি দলের সভায় আলমকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

এ নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি টিআইএম নুরুন্নবী তারিক ও সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল খোকনের সাথে এমপি হবিবর রহমানের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এছাড়া উপজেলা পরিষদে উন্নয়ন কাজে এডিবির এক কোটি ৩২ লাখ টাকা, জাইকার অর্ধকোটি এবং মসজিদ নির্মাণের ৬০ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন বরাদ্দ আসে।

কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাই খোকন গত ডিসেম্বরের পর সভায় অংশ না নেওয়ায় বরাদ্দের কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছিলনা। এতে বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বরদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

নির্বাচনে পরাজয়, পরিষদে আসা বরাদ্দের টাকার ভাগবাটোয়ারাসহ বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিরোধের জের ধরে শনিবার দুপুরে উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজাউদ্দৌলা রিপনকে পরিষদ এলাকায় এমপির ছেলে সনির লোকজন মারধর করেন।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পক্ষের যুবলীগের সভাপতি এসএম মতিউর রহমান, ছাত্রলীগের সভাপতি জাকারিয়া খন্দকার ও সাধারন সম্পাদক আবু সালেহ স্বপনের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী লাঠিসোটা নিয়ে এমপির ছেলে ও তার পক্ষের নেতাকর্মীদের ধাওয়া করেন। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ সভাপতি তারিক গ্রুপের উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মতিউর রহমান, সুজাউদ্দৌলা রিপন, ছাত্রলীগ সভাপতি জাকারিয়া খন্দকার, ছাত্রলীগ নেতা সজেদুর রহমান সাগর, রুবেল বাবু, আরিফ রহমান, নাসিম, আকাশ, বলাই মন্ডল, হৃদয় হাসানসহ ১৬ জন এবং এমপির ছেলে সনি গ্রুপের যুবলীগ নেতাকর্মী সুজন, সাত্তার ও মিঠু আহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও শর্টগান দিয়ে ছয় রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।

ওই সময় ধুনট থানার এসআই প্রদীপ, এসআই মজিবর, কনস্টেবল সবুজ মিয়া ও কনস্টেবল মোজাফফর আহত হন।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আবু সালেহ স্বপন অভিযোগ করেন, এমপির ছেলে সনি পুলিশ নিয়ে তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলের ওপর হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের আহত করেছেন।

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভাপতি তারিক পরাজিত এবং উপজেলা পরিষদে আসা বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা নিয়ে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে শনিবার দুপুরে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ছয় রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ সময় চার পুলিশ ও ১৩ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com