বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার ধুনটে একই স্থান এবং একই সময়ে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সমাবেশ আহবান করায় সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা করা হয়েছে।
সহিংসতার আশংকা দেখা দেওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ধুনট পৌরসভার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও মুজিব মঞ্চ এবং আশপাশের ৪০০ গজ এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সব ধরণের সভা, সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানান, বুধবার মধ্যরাতে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ধুনটে আধিপত্য বিস্তার ও পৌর নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন।
একপক্ষে বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান ও তার অনুসারীরা এবং অন্যপক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ টিআইএম নুরুন্নবী তারিক ও তার লোকজন।
এ নিয়ে তারিক পক্ষ প্রতিপক্ষের ৮-৯ জন নেতাকর্মীকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করেন। থানায় পাল্টিপাল্টি মামলা হয়। সব নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এদিকে মামলার প্রতিবাদে তারিক গ্রুপের উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ স্বপন বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শহীদ মিনার চত্বরে সমাবেশ আহবান করে।
অপরদিকে এমপি গ্রুপের পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য রাসেল খন্দকার একই সময় ও স্থানে পাল্টা সমাবেশের ডাক দেয়। তারা যে কোন মূল্যে শহীদ মিনার চত্বরে সমাবেশ সফল করার ঘোষণা দেয়।
পাল্টা পাল্টি সমাবেশ আহবান করায় উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বুধবার রাত ১১টার দিকে ভেন্যু এলাকায় ৬-৭টি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ধুনট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা জানান, এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণ বললেও তারা ককটেল বিস্ফোরণের কোন আলামত দেখতে পাননি।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানান, ছাত্রলীগের দু’পক্ষ শহীদ মিনার চত্বরে একই সময়ে সমাবেশ আহবান করে। এতে সহিংসার আশংকা দেওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ ও মুজিব মঞ্চ এবং আশপাশের ৪০০ গজ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
এ সময় ওই এলাকায় সবধরণের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। এ প্রসঙ্গে দু’পক্ষের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।