বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার নন্দীগ্রামে চলতি বোরো মৌসুমে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে।
পুরোদমে কাটা-মাড়াই শুরু হতে আরো এক সপ্তাহ দেরি থাকলেও কৃষকরা ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। করোনাভাইরাস ও লকডাউনের কারণে অন্য জেলার শ্রমিকরা আসতে না পারলে শ্রমিক সংকট দেখা দিবে। এ অবস্থায় কালবৈশাখীর ঝড় ও বৃষ্টিতে পাকা ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও করা হচ্ছে।
নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি বেরো মৌসুমে উপজেলার একটি পৌরসভা ও পাঁচটি ইউনিয়নে ১৯ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য হয়েছে, এক লাখ ১৯ হাজার ৮৩৬ মেট্রিক টন চাল। বিগত বছরের মত বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে।
মাঠজুড়ে এখন পাকা ধানের সোনালী রঙের ঝিলিক। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে, ঠিকমত ধান গোলায় তুলতে এবং বাজারে ভাল মূল্যে বিক্রি করতে পারলেই কৃষকের স্বপ্ন পূরণ হবে।
উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের কৃষক মিলন ফকির জানান, তার পাঁচ বিঘা জমির ধান কাটা হয়েছে। প্রতি বিঘায় ২৫ মণ ফলন পেয়েছেন। প্রতি বিঘা ধান কাটা-মাড়াই খরচ পড়েছে তিন হাজার ৬০০ টাকা। প্রতিমণ ধান বিক্রি করেছেন, এক হাজার ৫৫ টাকায়।
হাটলাল গ্রামের কৃষক হাবিব মাষ্টার বলেন, বোরো ধান কাটা-মাড়াই আগামী সপ্তাহে শুরু করতে পারবেন। কিন্তু করোনা ও লকডাউনের কারণে ধান কাটা শ্রমিকরা পাওয়া কঠিন। শ্রমিক সংকট ও কালবৈশাখীর ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কায় তিনি ধান ঘরে তোলা নিয়ে চিন্তিত।
স্থানীয় ধান কাটার শ্রমিক নারায়ণ চন্দ্র জানান, অন্য জেলা থেকে শ্রমিকরা না আসলে তাদের পক্ষে সব ধান কাটা-মাড়াই সম্ভব নয়। তিনি জানান, এক বিঘা জমির ধান কাটা-মাড়াইয়ে চারজন শ্রমিক লাগে। বর্তমানে তারা প্রতিদিন ৯০০ টাকা মজুরি পাচ্ছেন।
নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আদনান বাবু বলেন, এ উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন আশা করা যাচ্ছে। লকডাউনের মধ্যেও ধান কাটার শ্রমিক এখানে আসতে পারবে। এ কাজে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।