বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি :বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকায় ১০ বছর আগে কোচিং সেন্টারে ঢুকে পরিচালক (ভর্তি) শরিফুল ইসলাম হত্যা মামলার আসামি হামিদুল ইসলাম ধরা পড়েছে।
র্যাব-১২ বগুড়া স্পেশাল কোম্পানীর সদস্যরা মঙ্গলবার রাতে শহরের কলোনী বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছেন।
র্যাবের কোম্পানী কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবদুল্লাহ আল মামুন বুধবার দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, হামিদুল ভাড়াটিয়ে খুনি। তার বিরুদ্ধে আরো পাঁচটি মামলা রয়েছে। তাকে সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্র জানায়, বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকায় প্রগ্রেস কোচিং সেন্টার রয়েছে। মোস্তাফিজার রহমান এর চেয়ারম্যান। তার দুই ভাগ্নে শরিফুল ইসলাম (২৭) ভর্তি শাখার পরিচালক ও আশরাফুল আলম (৩১) পরিচালক (প্রশাসন)।
এ প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে তার স্ত্রী তন্দ্রা রহমানের বিরোধ সৃষ্টি হয়। ফলে চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান ও তার স্ত্রী পরিচালক তন্দ্রা রহমান পৃথকভাবে বসবাস করছিলেন।
এর জের ধরে গত ২০১১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে তন্দ্রার নেতৃত্বে ৭-৮ জন দুর্বৃত্ত কোচিং সেন্টারে গিয়ে মোস্তাফিজার রহমানকে খোঁজাখুঁজি করে। তাকে না পেয়ে পরিচালক সহোদর আশরাফুল আলম ও শরিফুল ইসলামের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তন্দ্রা রহমান স্বামীর ভাগ্নে দুই পরিচালককে কলার ধরে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেন।
সন্ত্রাসীরা দুই ভাইকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। তাদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিলে রাত ৯টার দিকে শরিফুল ইসলাম মারা যান।
এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমানের ছোট ভাই আবদুল ওয়াদুদ সদর থানায় ভাবী তন্দ্রা রহমানকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখ করে আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
এ মামলার অন্যতম আসামি ছিল ভাড়াটে খুনি বগুড়া শহরের চকফরিদ এলাকার মৃত শাহজাহান আলীর ছেলে হামিদুল ইসলাম।
র্যাবের কোম্পানী কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, হামিদুল ইসলাম ভাড়াটে খুনি হিসেবে ওই হত্যায় অংশ নিয়েছিল। এরপর থেকে সে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলো। তবে মাঝে মাঝে আইন- শৃংখলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজাসহ অন্যান্য মাদকের সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে আরো পাঁচটি মামলা রয়েছে।
পাশাপাশি একটি মামলায় সাজাসহ হত্যা মামলা ও কয়েকটি মাদক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল।
তিনি আরো জানান, দীর্ঘ ১০ বছর পর ২২ জুন রাত ৯টার দিকে গোপনে খবর পেয়ে শহরের কলোনী বাজার এলাকা থেকে হামিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে সদর থানায় সোপর্দ করা হয়।
সদর থানার ওসি সেলিম রেজা জানান, হামিদুলের বিরুদ্ধে হত্যাসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।