বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার সোনাতলা পৌরসভা নির্বাচনে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকারী স্থানীয় পিস কমিটির সভাপতির ছেলে শহিদুল বারী খাঁন রব্বানী নৌকা প্রতীক পেয়েছেন।
স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের এহেন কর্মকান্ডে তৃণমূল নেতাকর্মীরা হতবাক হয়েছেন। তার মনোনয়ন বাতিল করে যোগ্য প্রার্থীকে সুযোগ দিতে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে প্রার্থী রব্বানী খান দাবি করেছেন, তার বাবা কখনও পিস কমিটির সভাপতি ছিলেন না। তৎকালীন সোনাতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক সহযোগিতা করেছেন।
সোনাতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মিনহাদুজ্জামান লীটন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, রব্বানীর বাবা কখনও রাজাকার ছিলেন না। তিনি বলেন, বর্তমান মেয়র জাহাঙ্গীর আকন্দ নান্নু ষড়যন্ত্র করে রব্বানীর মরহুম বাবা সামছুল হক খাঁনসহ অনেককে পিস কমিটির সভাপতি ও সদস্য বানিয়েছেন।
সোনাতলা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য জাকির হোসেন জাকির শুক্রবার বিকালে আওয়ামী লীগ এবং স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেছেন, আগামী ২ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য সোনাতলা পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপ্রাপ্ত শহিদুল বারী খাঁন রব্বানীর বাবা মৃত সামছুল হক খাঁন মহান মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতাকারী ও উপজেলা শান্তি কমিটির সভাপতি ছিলেন।
সেই পরিবারের সন্তান রব্বানীকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়ায় মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নসহ পুরো জেলায় জনগণের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, রাজাকারের সন্তানকে নৌকা প্রতীক দেওয়ায় পরাজয়ের আশংকা রয়েছে। তাই তার মনোনয়ন বাতিল করে সেখানে যোগ্য ব্যক্তিকে নৌকা প্রতীক প্রদান করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা পূরণের অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ আবেদনের অনুলিপি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক ও রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদককে দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীরা জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগে আধিপত্য বিস্তারসহ নানা কারণে বর্তমান মেয়র জাহাঙ্গীর আকন্দ নান্নুকে মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়েছে। গত নির্বাচনে নান্নু বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ৮৫ ভোটে রাজাকারপুত্র শহিদুল বারী খাঁন রব্বানীকে পরাজিত করে সোনাতলা পৌরসভার মেয়র হন।
সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আবদুল মান্নান ব্যক্তিস্বার্থে রব্বানীকে আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদে স্থান দেন। বর্তমানে তার উত্তরসূরীরা তাকে অনুসরণ করছেন। তারা ব্যক্তিস্বার্থ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে মনোনয়ন বোর্ডকে ভুল বুঝিয়ে রাজাকারের সন্তান শহিদুল বারী খাঁন রব্বানীকে মেয়র প্রার্থী করেছেন। ফলে এখানে তার পরাজয়ের সম্ভবনা অনেক। ত্যাগী নেতাকর্মীরা অবিলম্বে রব্বানীর মনোনয়ন বাতিল করে যোগ্য ও স্বাধীনতার পক্ষের কাউকে প্রার্থী করতে অনুরোধ জানিয়েছেন।