বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: করোনাকালে একতরফা বগুড়ার শাজাহানপুরের আশেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন আয়োজন করায় তা ভন্ডুল করে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাণীর হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজে মাঠে আয়োজিত ওই সম্মেলনে অপর পক্ষ হামলা চালায়। এ সময় সম্মেলনস্থলে হট্টগোল ও চেয়ার ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।
বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ বগুড়া জেলাকে রেড জোন ঘোষণা করেছে। ফলে শাজাহানপুর, শিবগঞ্জ ও নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন স্থগিত করা হয়।
অথচ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ভেন্যু করা হয় রানীরহাট স্কুল ও কলেজ মাঠ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শাজাহানপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালেবুল ইসলাম জানান, সরকারি বিধিনিষেধের কারণে সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। এরপরও বিকালে সম্মেলনের প্রস্তুতি নিলে সেখানে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত হন।
করোনা উপেক্ষা করে সম্মেলনের আয়োজন করা নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপক্ষ তখন হট্টগোল ও মঞ্চের সামনে থাকা চেয়ার ভাংচুর করতে থাকে। উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা তোপের মুখে পড়েন।
এ প্রসঙ্গে আশেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক জেলদার রহমান জানান, কয়েক দিন আগে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলরদের তালিকা প্রকাশ করেননি। তারা পকেট কমিটি ঘোষণার চেষ্টা করলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হন। এক পর্যায়ে তারা চেয়ার ভাংচুর করেন। এতে সম্মেলন ভন্ডুল হয়ে যায়।
এ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আসাদুর রহমান দুলু জানান, আশেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ পূর্বনির্ধারিত। জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে পরামর্শ করে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন।
দ্বিতীয় অধিবেশনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী হযরত আলীর নেতৃত্বে সম্মেলন স্থলে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়। পরে অন্য স্থানে কাউন্সিলররা বসে আবদুল হাই মাস্টারকে সভাপতি ও আবদুল মালেককে সাধারণ সম্পাদক করে আশেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।