বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া জেলা শ্রমিক লীগের ৪৫ সদস্যের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
শ্রমিক নেতা কামরুল মোর্শেদ আপেলকে আহবায়ক ও রাকিব উদ্দিন সিজারকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কেএম আযম খসরু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে সিজার বগুড়া যুবদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকায় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কমিটি বাতিলের দাবিতে অপরপক্ষ প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।
এ প্রসঙ্গে সদস্য সচিব রাকিব উদ্দিন সিজার জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘ সাত বছর যুব শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তার বাবা শ্রমিক নেতা আবদুল গফুর ও অন্যরা আওয়ামী ঘরোনার। প্রতিপক্ষরা ছবি এডিট করে তাকে যুবদল নেতা বানিয়েছেন। আহবায়ক কামরুল মোর্শেদ আপেলও একই দাবি করেছেন।
বগুড়া জেলা যুবদলের সভাপতি খাদেমুল ইসলাম ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরাফাতুর রহমান আপেল জানান, সিজার তাদের সংগঠনে কখনও ছিলেন না। কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে কারো ছবি থাকলেই সে সংগঠনের নেতাকর্মী হয়না।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জেলার সকল উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড সম্মেলন করতে হবে। এরপর জেলা পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার শর্তে ৪৫ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটির অনুমোদন দেওয়া হলো। কমিটিতে যুগ্ম আহবায়ক পদে ছয়জন এবং ৩৭ জন সদস্য রাখা হয়েছে।
শনিবার জেলা শ্রমিক লীগের কমিটি ঘোষণার খবর প্রচার হলে বঞ্চিত নেতাকর্মীদের মাঝে প্রচন্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন শেখ হেলাল তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, বগুড়ায় আওয়ামী লীগ পরিবারের এ কি অবস্থা? বিএনপি, যুবদলের নাশকতা মামলার নেতাদের নিয়ে বগুড়া জেলা শ্রমিক লীগের নেতা বানানো হয়? এ প্রশ্নের উত্তর কে দিবে?
হেলাল জানান, সিজার বগুড়া শহর যুবদলের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ছিলেন। তাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতাদের সাথে দেখা গেছে।
সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুস সালাম লিখেছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ২০১৪ সালে বগুড়ায় আসলে তার সাথে নাশকতা মামলার আসামি রাকিব উদ্দিন সিজার ছিল।
এদিকে সদ্য ঘোষিত বগুড়া জেলা শ্রমিক লীগের কমিটি অবৈধ দাবি করে তা বাতিল চেয়েছেন একাংশের নেতারা। শুক্রবার রাতে শহরে টেম্পল রোডের দলীয় কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্য রাখেন, শ্রমিক লীগ নেতা শামছুদ্দিন শেখ হেলাল, আলী আশরাফ চিশতী, রেজাউল ইসলাম, তাপস কুমার নিয়োগী, আলতাফ হোসেন, আবদুল জলিল, আবদুল মজিদ, নুরুল আমিন, আবদুল হামিদ, সুলতান মিয়া, আবদুল আজিজ শেখ, জালাল উদ্দিন, নিজামুর রহমান, মহসিন আলী, রতন রায়, আবু তালেব প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ঘোষিত কমিটির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কেএম আযম খসরু ছাড়া আর কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতার স্বাক্ষর নেই। তাদের কিছু না জানিয়ে মনগড়া কমিটি গঠন করা হয়েছে; যা অবৈধ। বক্তারা অবিলম্বে এ কমিটি বাতিল দাবি করেছেন।