বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার ধুনট উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন্দল বেড়েই চলেছে। একের পর এক দল থেকে অব্যাহতি ও অনাস্থা জ্ঞাপনসহ যে যার মতো একাধিক গ্রুপ তৈরি করে চলেছেন। গত পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পর থেকে দুটি গ্রুপের দ্বন্দ্ব এখন তুঙ্গে।
আগামীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে এই দ্বন্দ্ব এখন সংঘাতে রূপ নিতে যাচ্ছে। তৃণমুল নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত ও বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন।
এর ধারাবাহিকতায় এবার মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান আহমেদ মল্লিকের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে স্বাক্ষর করেছেন, ৪৬ নেতাকর্মী।
১২ ফেব্রুয়ারি মথুরাপুর আমেনা ময়েন সিনিয়র মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি শিক্ষক আব্দুল কাদের সরকারের সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান আহমেদ মল্লিকের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করা হয়।
এ ব্যাপারে হাসান আহমেদ মল্লিক বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যারা নৌকার বিপক্ষে কাজ করেছেন তাদেরকে দল থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। তাই অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতারা কারো প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করতে পারেন না।
এ প্রসঙ্গে মথুরাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মর্তুজার বলেন, দলীয় নেতাকর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা করে মল্লিককে নৌকা প্রতীকে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন। কিন্তু এরপরও তিনি অন্যায়ভাবে ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থীভাবে একের পর এক নেতাকর্মীকে অব্যাহতি প্রদানের নাটক করছেন। এ কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন এবং সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপ করায় নেতাকর্মীরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে অনাস্থা জ্ঞাপন করেছেন।
তবে শুধু মথরাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মল্লিকের ওপরই অনাস্থা জ্ঞাপন নয়। এর আগে গোপালনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান শাহ আলমের ওপর ৭১ জন নেতাকর্মী অনাস্থা জ্ঞাপন করেন। তবে ত্যাগী নেতাকর্মীরা বলছেন, এ অনাস্থা জ্ঞাপন ও সংগঠন থেকে একে অপরকে বের করে দেওয়ায় সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে এ উপজেলায় আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। তারা এ অচলাবস্থা নিরসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।