বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সাবেক আহবায়ক ও বর্তমান সদস্য আবুল বাসারের দলীয় কর্মকান্ড ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
১৭ আগস্ট জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক একেএম সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তার সমর্থক বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা জেলা বিএনপির এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আবুল বাসার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ দৃঢতার সাথে অস্বীকার করে বলেন, ব্যক্তি আদর্শে বিশ্বাসী না হওয়ায় তাকে অন্যায়ভাবে বিএনপির রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
আবুল বাসারের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৯ জুলাই জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির নির্বাহী সভায় তার (বাসার) দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখানে সর্বসম্মতির সিদ্ধান্তে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৭ আগস্ট থেকে আবুল বাসারের বিএনপির সকল পর্যায়ের দলীয় কর্মকান্ড ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হলো।
বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক একেএম সাইফুল ইসলাম শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আবুল বাসারের বিরুদ্ধে আনা এ সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এ প্রসঙ্গে আবুল বাসার বলেন, তিনি ১৯৯৪ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতি করেন। বগুড়া সরকারি শাহ সুলতান কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতিতে আসেন। শাজাহানপুরের ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যায়ে বিএনপির বিভিন্ন পদে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। এরপরও কোন দোষ না করেও অপরাধী হলেন।
তিনি বলেন, শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির আগামী সম্মেলনে তিনি সভাপতি প্রার্থী। তাকে প্রার্থীতা থেকে সরাতে ব্যর্থ হয়ে আহবায়ক কমিটির অপর সদস্য এনামুল হক শাহীন জেলা আহবায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দকে ম্যানেজ করে তার বিরুদ্ধে এমন ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছেন। অথচ শাহীন ইউনিয়নের পাঁচটি পকেট কমিটি করেছেন; আরো চারটি ইউনিয়নে পকেট কমিটি করার চেষ্টা করছেন।
আবুল বাসার আরো বলেন, তিনি খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসী। কোন ব্যক্তি আদর্শে বিশ্বাসী না হওয়ায় তাকে অন্যায়ভাবে বিএনপির রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হলো। তার বিরুদ্ধে আনা শাস্তি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আবুল বাসারের অভিযোগ প্রসঙ্গে আহবায়ক কমিটির অপর সদস্য এনামুল হক শাহীন জানান, তাকে (এনামুল) অন্যায়ভাবে দায়ি করা হচ্ছে। এটা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র; তিনি কোন পকেট কমিটি করেননি। বাসার দল বিরোধী কথাবার্তা বলায় শাস্তির আওতায় আসেছেন।