বাংলা হেডলাইনস সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ৭ই মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার দিন নয়। তাই এ দিন নিয়ে কেউ বাড়াবাড়ি করবেন না। দলীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানানো হয়।
দলটির সম্প্রীতির সমাবেশে মঞ্চ ভেঙ্গে অন্তত ২৬জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ বাজার স্টেশন এলাকায় জেলা বিএনপি আয়োজিত সম্প্রীতির সমাবেশের ভেঙ্গে যাওয়া মঞ্চের পাশ থেকে প্রধান অতিথির সংক্ষিপ্ত বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। তিনি হ্যান্ড মাইকে আরো বলেন, নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। আওয়ামী লীগের মতো আমাদের ভুল করা যাবে না। এজন্য দলীয় কর্মকান্ড শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীদের মাঠে নামতে হবে। আগামী নির্বাচন উপলক্ষে যার যার অবস্থান থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। একটি দল আমাদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য ষড়যন্ত্র করছে। সেই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে যেকোন মূল্যে রুখে দাঁড়াতে হবে। প্রায় ২ বছর পর জন্মস্থান সিরাজগঞ্জের মাটিতে এসেছি।
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশের বাইরে ছিলাম। নেতাকর্মীরাও অনেক জেল জুলুম ও ত্যাগ শিকার করেছেন। স্বৈরাচার সরকারের নির্যাতন ইতিহাসে স্বাক্ষী হয়ে থাকবে। আজ সিরাজগঞ্জবাসীর মধ্যে যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে, এতে আমার মন ভরে গেছে।
তিনি প্রশাসনের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, জনসাধারণের সাথে আপনাদের অটুট বন্ধন তৈরি করতে হবে। তারা যেন ন্যায় বিচারের আশ্বাস পায়। এজন্য আপনাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।
জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি রুমানা মাহমুদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আমিরুল ইসলাম আলিম, জেলা বিএনপির সহ- সভাপতি মুজিবুর রহমান লেবু, নাজমুল হাসান তালুকদার রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান প্রমূখ।
এর আগে জেলা উপজেলা বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার ফেস্টুনীতে আয়োজিত এ সম্প্রীতির সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে বিএনপি নেতা আমিরুল ইসলাম আলিম বক্তব্যকালে (বিকেল
পৌনে ৫ টার দিকে) সম্প্রীতির সমাবেশের মঞ্চটি ভেঙ্গে পড়ে। এতে একজন সাবেক এমপিসহ কমপক্ষে ২৬ নেতাকর্মী কমবেশি আহত হয়েছেন। সমাবেশের প্রধান অতিথি মঞ্চে আসন গ্রহণের আগে ও পরে ওই মঞ্চে অতিরিক্ত নেতাকর্মীদের অবস্থান না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছিল। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাঈদুর রহমান বাচ্চুসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী এ সতর্ক করেও ব্যর্থ হন। অবশেষে ওই মঞ্চে প্রায় ৪ গুণ নেতাকর্মী অবস্থান করছিল। তারা ভিডিওসহ সেলফি তুলছিল এবং একপর্যায়ে ওই মঞ্চটি ভেঙ্গে পড়ে যায়। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে এ দুর্ঘটনার পর প্রধান অতিথি হ্যান্ডমাইকে সমাবেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।