বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার শাজাহানপুরে ফেসবুকে পরিচয় এরপর প্রেম। তারপর প্রেমিকের সাথে দেখা করতে এসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক বিবাহিত নারী।
ওই দৃশ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ায় শাজাহানপুর থানা পুলিশ ও র্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্পের সদস্যরা প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত তাদের উপজেলার বি-ব্লক, সি-ব্লক ও বনানী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ধর্ষণের দৃশ্য ধারণ ও অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
শাজাহানপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মানুম এর সত্যতা নিশ্চিত করছেন।
গ্রেফতার আসামিরা হলো বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার রহিমাবাদ বি-ব্লক এলাকার আলম মিয়ার ছেলে গোলাম রাব্বী (১৯), তার বন্ধু একই উপজেলার ফুলকোট গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে আবদুল্লাহ (১৯), রহিমাবাদ এলাকার আবদুল মান্নানের ছেলে আরেফিন (২৫) ও মো: নিশাত (২১)।
থানা পুলিশ, র্যাব ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গোলাম রাব্বীর ফেসবুক আড্ডা নামে একটি গ্রুপ আছে। এ গ্রুপের মাধ্যমে রাব্বী ৪/৫ মাস আগে শেরপুরের বিবাহিত ওই নারীর সাথে পরিচিত হয়। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ওই নারী গত ১৩ জুলাই মঙ্গলবার রাব্বীর সাথে দেখা করতে বি-ব্লক এলাকায় আসে।
রাব্বী তাকে ফুসলিয়ে একটি পরিত্যাক্ত বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে ধারালো অস্ত্রের মুখে পাঁচজন তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইল ফোন ভিডিও করা হয়। চাহিদামত টাকা না পেয়ে ধর্ষণের দৃশ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়। এই ব্যাপারে ওই নারী শাজাহানপুর থানায় উল্লিখিত পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করে।
এদিকে মামলা দায়েরের পর থেকে শাজাহানপুর থানা পুলিশ ও র্যাব-১২ বগুড়া স্পেশাল কোম্পানীর সদস্যরা মাঠে নামে। বৃহস্পতিবার দিনভর বি-ব্লক ও সি-ব্লক এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবদুল্লাহ, আরেফিন ও তার ভাই নিশাতকে গ্রেফতার করে। মূলহোতা গোলাম রাব্বী ও তার বন্ধু ফিরোজ আত্মগোপন করে।
অন্যদিকে র্যাব সদস্যরা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে রাব্বীর অবস্থান শনাক্ত করে। র্যাব কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবদুল্লাহ আল মামুন (জি) জানান, শুক্রবার দুপুরে তাকে (রাব্বী) উপজেলার বনানী দ্বিতীয় বাইপাস মোড় এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছে ওই গৃহবধুকে ধর্ষণের ভিডিও করা ও অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ায় ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
পরে তাকে আলামতসহ শাজাহানপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। শাজাহানপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, গ্রেফতার চারজনকে আদালতের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক ফিরোজকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।