বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, জনগন যখন কোন সরকারকে চায় না তখন কোন বিদেশী শক্তি তাকে রক্ষা করতে পারেনা।
তিনি বলেন ‘যখন বিপদ আসবে পুলিশও তখন পাশে থাকবে না। জনগনই আমাদের শক্তি। তাই পাড়া- মহল্লায় আন্দোলন গড়ে তুলুন। সাহস করে রাজপথে নামলে সরকার বিদায় নেবেই।’
বুধবার দুপুরে বগুড়া জেলা বিএনপির আয়োজনে শহরের নবাব বাড়ী রোডস্থ জেলা কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গয়েশ্বর রায় এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, যারা ১০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে তাদের চোখে ঘুম নেই। গয়েশ্বর বলেন, মার্কিন সরকার র্যাবসহ কিছু সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যক্তিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। এতেই তারা আতংকিত। সামনে আরো কাদের নাম আসবে তা দেখার অপেক্ষায় জাতি।
বগুড়া জেলা বিএনপির আহবায়ক রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় সদস্য আলী আজগর তালুকদার হেনার পরিচালনায় সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান, বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান, যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান প্রমুখ।
ক্ষমতাসীন দলের উদ্দেশ্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরো বলেন, গত ১২ বছরে অনেক করেছেন এমন জাতির কাছে ক্ষমা চান, বিএনপির সাথে ভালো ব্যবহার করুন।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। আপনাদের সময় শেষ। সামান্য একটু ধাক্কা দিলেই সরকার পড়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের কোন অস্ত্রের দরকার নেই। জনগনই আমাদের অস্ত্র।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি কেন্দ্রীয় সাংগাঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়াকে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটকে রেখেছে সরকার। এটা দেশবাসী মেনে নিতে পারে না। তাই আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
তারেক রহমানের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, যদি সরকার তা না করে তবে আপনি (তারেক রহমান) সরকার পতনের আন্দোলনের ঘোষনা দিন। সেই আন্দোলন বগুড়া থেকেই শুরু হবে।
সমাবেশে জেলার প্রতিটি এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা যোগ দেন। সমাবেশে কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। এ কারণে শহরের বিভিন্ন সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। যানজট নিয়ন্ত্রনে পুলিশকে বেগ পেতে হয়।