বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে সালিস বৈঠকে রুবি বেগম (৬০) নামে এক গৃহবধুকে প্রকাশ্যে লাঠিপেটা করার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
রোববার সকালে পুলিশ নির্যাতনকারী উপজেলার নারচি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তরিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে।
শনিবারের ওই ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ওই নারী সারিয়াকান্দি থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
ওসি মিজানুর রহমান জানান, গ্রেফতার প্রধান আসামি ইউপি সদস্যকে রোববার বিকালে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সারিয়াকান্দি পৌরসভার উত্তর হিন্দুকান্দি এলাকার মৃত ইব্রাহিম প্রামানিকের ছেলে ‘জিনের বাদশা’ খ্যাত কবিরাজ আবদুল খালেক নারচি ইউনিয়নের গণকপাড়ায় কিটু প্রামানিকের বাড়িতে যাতায়াত করেন। তিনি মাঝে মাঝে ওই বাড়িতে রাত্রি যাপন করতেন। এলাকাবাসীর সন্দেহ কিটুর বিবাহযোগ্য মেয়ের সাথে খালেকের অনৈতিক সম্পর্ক আছে। আর এ কাজে কিটুর স্ত্রী রুবি বেগম সহযোগিতা করেন।
এ সন্দেহের কারণে স্থানীয়রা শনিবার বেলা ১০টার দিকে নারচি ইউনিয়নের গণকপাড়ার কৌডালার মালোপাড়ায় বিশু প্রমানিকের বাড়িতে শালিসী বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
শালিসে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য তরিকুল ইসলাম ওই নারী ও আবদুল খালেককে দোষী সাব্যস্ত করেন। খালেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, মারপিট ও কান ধরে উঠাবসা করে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর ইউপি সদস্য প্রকাশ্যে রুবিকে লাঠিপেটা করেন। এ মারপিটের ভিডিও চিত্র ফেসবুকে ছড়িয়ে পরে।
এ প্রসঙ্গে নারচি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলতাফ আলী বান্টু বলেন, জিনের বাদশা আবদুল খালেক ও রুবির মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে অনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছে। শনিবার সকালে গ্রামবাসীরা তাদের এক বিছানা থেকে আটক করেন। তিনি খবর পেয়ে বিষয়টি সারিয়াকান্দি থানায় অবহিত করেন।
এরপর স্বজনরা থানা-পুলিশ না করে স্থানীয়ভাবে মিমাংসা চান।
তাদের অনুরোধ ও চাপের মুখে ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলাম শালিসে খালেককে জরিমানা, মারপিট ও কানধরে উঠাবসা করান। এছাড়া রুবি বেগমকে লাঠিপেটা করা হয়। চেয়ারম্যান দাবি করেন, ইউপি সদস্য স্বজনদের চাপে এ কাজ করেছেন; এখানে তার কোন দোষ নেই।
সারিয়াকান্দি থানার এসআই নজরুল ইসলাম জানান, এক নারীকে লাঠিপেটা করার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে ঘটনাটি পুলিশের নজরে আসে। পরে ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলাম, নির্যাতনের শিকার রুবি বেগম ও তার মেয়েকে থানায় আনা হয়। এ ব্যাপারে রুবি বেগম ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
রোববার সকালে তরিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। মামলার অপর আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।