বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আহবায়ক জামায়াতের সাবেক নেতা এবিএম মাজেদুর রহমান জুয়েল ও যুগ্ম আহবায়ক সাবেক ছাত্রদল নেতা সরকার মুকুলের মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে।
তারা কেউ কাউকে সহ্য করতে পারছেন না। সুযোগ বুঝে একে অপরের বিষোধগার করছেন।
সর্বশেষ গত ১৯ আগস্ট বিকালে শহরের নবাববাড়ি সড়কে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়া নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। জেলা বিএনপির আহবায়ক ও অন্যান্য উর্ধতন নেতাদের সামনে ওই ঘটনার সময় জুয়েলের লোকজনের ছুরিকাঘাত ও মারপিটে মুকুল পক্ষের চার নেতাকর্মী আহত হন। এ ঘটনার জন্য একে অপরকে দায়ি করছেন। উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে মুকুল পক্ষ মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক একেএম সাইফুল ইসলাম জানান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের তিন মাসের আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ তিন বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। অন্যসব সংগঠনের মত আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়কের মধ্যে ছোট কোন্দল রয়েছে। সেদিনের হামলায় আহতরা অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, গত ২০১৯ সালের ৯ আগস্ট স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বগুড়া জেলা শাখার ২১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। এখানে বগুড়া শহর জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি এবিএম মাজেদুর রহমান জুয়েলকে আহ্বায়ক ও ছাত্রদলের সাবেক নেতা সরকার মুকুলকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। পরে এক নম্বর সদস্য রাকিবুল ইসলাম শুভকে দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, দলের কিছু স্বার্থান্বেষী ও অর্থলোভী নেতা অন্তত ১১ লাখ টাকার বিনিময়ে জামায়াত-শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডার অনেক মামলার আসামি জুয়েলকে বিএনপিতে নেন।ক্রসফায়ার থেকে বাঁচতে জুয়েল বিএনপিতে হাইব্রিড হন। প্রাথমিক সদস্য পদ না থাকলেও তাকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক করা হয়। হাইব্রিড এ নেতা দলের সর্বস্তরে প্রভাব সৃষ্টি করায় ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। দলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সাধারণ সম্পাদক সরকার মুকুলের সাথে জুয়েলের বিরোধ দেখা দেয়। এতে নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েন।
গত ১৯ আগস্ট স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিকালে নবাববাড়ি সড়কে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
আহবায়ক মাজেদুর রহমান জুয়েলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক রেজাউল করিম বাদশা। এর আগে অসুস্থ জুয়েলকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে তা ঠেলে মিছিল সমাবেশস্থলে আসেন সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুসহ অন্যরা। সমাবেশ সংক্ষিপ্ত করার কারণে প্রধান অতিথি ছাড়া আর কাউকে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
এরপর সভাপতি জুয়েল সমাপনী বক্তব্য দিতে শুরু করেন। ১০ মিনিটেও বক্তব্য শেষ না হওয়ায় মঞ্চে থাকা যুগ্ম আহবায়ক সরকার মুকুল পিছন থেকে জুয়েলের পিঠে ধাক্কা দিয়ে সংক্ষিপ্ত করতে বলেন। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। জেলা বিএনপির উর্ধতন নেতাদের অনুরোধ অগ্রাহ্য করে জুয়েলের লোকজন মারমুখি হয়ে উঠেন। তারা মারপিট ও ছুরিকাঘাত করতে থাকেন। এতে শহর যুবদলের আহবায়ক সদস্য মেফতা আল রশিদ মিল্টনসহ দু’জন ছুরিকাহত এবং মারপিটে আরো ২-৩ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার জন্য মাজেদুর রহমান জুয়েল ও সরকার মুকুল একে অপরকে দায়ি করেন।
সরকার মুকুল বলেন, সাবেক জামায়াত নেতা এবিএম মাজেদুর রহমান জুয়েল স্বেচ্ছাসেবক দলে জামায়াত-শিবিরের রাজত্ব কায়েম করতে শুরু করেছেন। প্রাথমিক সদস্য না হলেও তাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক করা হয়েছে। তার অরাজকতার জন্য সংগঠন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সে (জুয়েল) ফেসবুকে তাকে (মুকুল) জড়িয়ে অনেক অশ্লীল কথা বলেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে জুয়েলের উষ্কে দেওয়া ক্যাডারদের মারপিট ও ছুরিকাঘাতে ৪-৫ জন আহত হয়েছেন।
মুকুল আরো বলেন, তিনি উর্ধতন নেতাদের সাথে আলোচনা করে হামলাকারী জুয়েল গ্রæপের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন। তিনি আরো বলেন, তার সংগঠনের আহবায়ক কমিটিই এখন পূর্ণাঙ্গ কমিটি। তাই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বলা যাবেনা।
এ প্রসঙ্গে এবিএম মাজেদুর রহমান জুয়েল বলেন, তিনি ছয় বছর আগে জামায়াত থেকে বিএনপিতে রাজনীতি করতে এসেছেন। বিএনপির গঠনতন্ত্র মেনে রাজনীতি করছেন। একটি স্বার্থন্বেষী মহল ইর্ষান্বিত হয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে যুগ্ম আহবায়ক সরকার মুকুল জেলা বিএনপির আহবায়ক অন্য নেতাদের সামনে তার সাথে দু’বার অসভ্যতা করেছেন।
তিনি বলেন, সরকার মুকুলের অতীত সবাই জানেন। তার বিরুদ্ধে থাকা ৩৩টি মামলার মধ্যে ১৪টি সামাজিক অপরাধ সংক্রান্ত।