বাংলা হেডলাইনস সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে দ্বিতীয়বার আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. আব্দুল আজিজকে অরাজনৈতিক ব্যক্তি ও জনকল্যাণমূলক কোন কাজ না করার অভিযোগ এনে দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী কৃষিবিদ সাখাওয়াত হোসেন সুইটের পক্ষে মাঠে নেমেছেন। এতে এ আসনের নৌকার প্রার্থীকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।
তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বলছে, সংসদ সদস্য (এমপি) ডা. আব্দুল আজিজ একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি। তিনি তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোন মূল্যায়ন না করে তার ৩ ভাই ও অর্ধশতাধিক ভাগ্নে মিলে গত ৫ বছর ব্যাপক লুটপাট করেছেন। এলাকার টাউট বাটপার প্রকৃতির লোকদের নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর জবাব দিতেই স্বতন্ত্র প্রার্থী কৃষিবিদ সাখাওয়াত হোসেন সুইটকে বিজয়ী করতে ঈগল পাখির পক্ষে একজোট হয়ে কাজ করছেন তারা। এমপি আব্দুল ডা. আব্দুল আজিজ কোনো জনকল্যাণমূলক কাজ করেননি ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়নের পাশাপাশি ভাইদের দিয়ে টি, আর-কাবিখার নিয়ন্ত্রণ করতেন এমন অভিযোগ তাড়াশ কৃষক আন্দোলনের আহ্বায়ক মীর শহিদুল ইসলামের।
তিনি আরো বলেন, স্ত্রী-শ্যালক ও ভাইদের ৩/৪টি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির পদ দিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন। তাড়াশ সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাবুল সেখ এমপির বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ করে ক্ষোভ ঝাড়ানে। এছাড়া মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম বুলবুল, তালম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্বাসুজ্জামান, সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বকুল এবং তাড়াশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মোক্তার হোসেনসহ তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মীদেরও একই অভিযোগ। একারণে স্থানীয় এসব নেতৃবৃন্দ প্রকাশ্যে নিজ দলের নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে এখন মাঠ কাঁপাচ্ছেন তারা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নৌকা সমর্থকরা বলছেন, মান-অভিমানে হয়তো দলের কিছু নেতাকর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলেলেও শেষ পর্যন্ত নৌকারই বিজয় হবে। সরেজমিনে ওই আসন ঘুরে জানা যায়, আওয়ামী লীগের তাড়াশ উপজেলা সভাপতি আব্দুস সামাদ খন্দকার নিস্ক্রিয় এবং সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত কুমার কর্মকার নৌকার পক্ষে কাজ করলেও সহ-সভাপতি ইউনুস তাড়াশী, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক আলহাজ আলীসহ বেশিরভাগ নেতাকর্মী নৌকার বিপক্ষে কাজ করছেন। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে তাড়াশ সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মীর শহিদুর রহমান ও বাবলু শেখ, সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বকুল, মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিকুল ইসলাম বুলবুল, তালম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্বাসুজ্জামান এবং দেশীগ্রাম ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জ্ঞানেন্দ্রনাথ বসাকসহ তৃণমূলে বেশিরভাগ নেতাকর্মী। এমনকি নৌকার প্রার্থী ডা. আজিজের নিজ ইউনিয়ন সগুনার বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলী ভুট্টো ও সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামসহ অনেক নেতাকর্মীই সরাসরি তার বিরুদ্ধে কাজ করছেন।
তবে নৌকার কাজ করছেন উপজেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ বেশ কয়েকটি ইউপি চেয়ারম্যান। এদিকে রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নৌকার কাজ করলেও দলের অধিকাংশ নেতাকর্মীই স্বতন্ত্র প্রার্থীর ঈগলের পক্ষে রয়েছেন বলে জানা গেছে। রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল হালিম খান দুলাল বলেন, এমপির স্বেচ্ছাচারিতার জবাব দিতে প্রার্থী হয়েছিলাম, মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে এখন কাজ করছেন বলে জানান।
রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ হৃদয় বলেন, গত ৫ বছরে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। দলও আগের চেয়ে এখন অনেক মজবুত আবারও নৌকার বিজয় হবে বলে দাবী করছেন। এটি কৃষি প্রধান একটি অঞ্চল, এখানকার কৃষক, দিনমজুর ও দলেরবঞ্চিত নেতাকর্মীই তার প্রাণ স্বতন্ত্র প্রার্থী কৃষিবিদ সাখাওয়াত হোসেন সুইট মনে করেন। চলনবিল অধ্যুষিত এ অঞ্চলের উন্নয়নের লক্ষ্যে এবং ভোটারদের ভোট কেন্দ্রমুখি করতেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বলে দাবী করেন তিনি। জনগণের ব্যাপক সাড়াও রয়েছে তার পক্ষে বিজয়ী হয়ে ঘরে ফিরবো ইনশাল্লাহ।
নৌকার প্রার্থী ডা. আব্দুল আজিজ বলেন, আমি পেশায় চিকিৎসক, মানুষের সেবা করা আমার নেশা, পাঁচ বছরে অনেক উন্নয়ন করেছি এবং সার্বক্ষণিক মানুষের পাশে থেকেছি। আশা করছি জনগণ আবারও আমাকেই ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। দলের কিছু মানুষ ভুল বুঝে বিদ্রোহী প্রার্থীরসঙ্গে থাকতে পারে, কিন্তু ভোট তারা নৌকাতেই দিবে বলে আশা করছেন তিনি।