বাংলা হেডলাইনস বগুড়া : বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণীর দুই ছাত্রীকে যৌণ হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার স্কুলে এসে তদন্ত করেছেন।
এক ছাত্রীর মা শাজাহানপুর থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযুক্ত শিক্ষক গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে স্কুলে অনুপস্থিত রয়েছেন। মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রামচন্দ্রপুর বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ৮ জন শিক্ষিকা এবং জাহাঙ্গীর আলম একমাত্র শিক্ষক। তার আচরণে শিক্ষিকারা অতিষ্ঠ। গত ৪ ডিসেম্বর দুপুরে ক্লাস বিরতির সময় শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম দুই ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ানোর কথা বলে তৃতীয় তলার একটি রুমে নিয়ে যান। তিনি সেখানে তাদের যৌণ হয়রানি করেন। এতে ছাত্রীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। ওই সময় কেউ এ ঘটনাটি গোপনে ভিডিও করে। লোকমুখে জানতে পেরে এক ছাত্রীর মা এ ব্যাপারে শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের কাছে জানতে চান। তখন তিনি ক্ষিপ্ত হন এবং ছাত্রীকে স্কুল থেকে বের করে দেবার হুমকি দেন।
গত ১৪ ডিসেম্বর কে বা কারা ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাসরিন আখতারের কক্ষে একটি খামে চিরকুট ও ছাত্রীদের হয়রানির ভিডিও সিডি রেখে যায়। চিরকুটে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়। প্রধান শিক্ষিকা এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে ১৫ ডিসেম্বর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেন। এর সাথে দুই ছাত্রীর অভিভাবকের অভিযোগ ও সিডি সংযুক্ত করা হয়।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফারুক উদ্দিন ১৮ ডিসেম্বর উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার তাহেরুল ইসলামকে প্রধান করে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার জহুরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ পারভেজকে সদস্য করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটি ১৯ ডিসেম্বর বিদ্যালয়ে এসে তদন্ত করেন। সহকারি শিক্ষা অফিসার তাহেরুল ইসলাম জানান, স্কুলের প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, সদস্য, অভিভাবক ও ভুক্তভোগী ছাত্রীদের সাথে কথা বলেছেন।
এছাড়া ভিডিও ফুটেজ দেখা হয়েছে। তিনি আরো জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে স্কুলে অনুপস্থিত রয়েছেন। অভিভাবকরা শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। অন্যথায় তারা তাদের সন্তানদের অন্য স্কুলে নিয়ে যাবেন। অভিযুক্ত শিক্ষক মোবাইল ফোন বন্ধ রাখায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, তিনি বড় ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।