বাংলা হেডলাইনস রাজশাহী : ত্রাণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের বিদিরপুর গ্রামের ঘরবন্দি দিনমজুররা।
সোমবার সকালে আয়োজিত এই মানববন্ধনে শতাধিক মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা ত্রাণের দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। তাদের দাবি, এলাকার শতাধিক মানুষ করোনাভাইরাসের কারণে সরকারি নির্দেশনা মেনে ঘরে থাকতে গিয়ে অনাহারে দিন কাটাছে। কোন ভাবেই তাদের ঘরে পৌছায়নি সরকারি কিংবা ব্যক্তিগত কোন ত্রাণ।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কয়েকজন জানান, তারা দিন আনে দিন খায়। কিন্তু বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে সরকার তাদেরকে ঘরে থাকতে বলেছে। এমন অবস্থায় তারা ঘরে থাকতে গিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিনানিপাত করছে। বর্তমানে তাদের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, তাদের কাছে জরুরীভাবে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া না হলে তারা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে পেটের খাবার যোগাতে কাজের সন্ধানে রাস্তায় নামতে বাধ্য হবেন।
তারা আরও জানায়, ত্রাণের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বারদের কাছে গেলে তারা যে ত্রাণ পেয়েছেন তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য হওয়ার তাদের দিতে পারেননি বলে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। আগামীতে ত্রাণ আসলে তাদের দেওয়া হবে বলে বিদায় করে দিচ্ছেন।
মৌগাছি ইউপি কৃষকলীগের ওয়ার্ড সভাপতি লিকায়ত আলী ও মুদি দোকানদার সোহাগ অভিযোগ করে বলেন, ত্রাণ তো দুরে থাক এই এলাকার সাধারন দিনমজুর মানুষগুলোকে আজ পর্যন্ত সচেতন করতে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি মৌগাছি ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা।
মৌগাছি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল-আমিন বিশ্বাস বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু ত্রাণ এসেছে তা সুষ্ঠভাবে বিতরণ করা হয়েছে। যারা ত্রাণ পায়নি তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে আগামীতে তাদের মধ্য ত্রাণ বিতরণ করা হবে।
এদিকে,
মানববন্ধনের কথা শুনে ঘটনাস্থলে
উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী
অফিসার সানওয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসনের
ম্যাজিস্ট্রেট লিটন দে, সেনাবাহিনীর
টহল টিম, মোহনপুর থানার
ওসি মোস্তাক আহম্মেদ, ইউপি চেয়ারম্যান আল-আমিন বিশ্বাস।
তারা ত্রাণ দেয়ার আশ্বাস
দিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেয়া লোকজনকে
বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। প্রশাসনের আশ্বাসে তারা বাড়ি ফিরে যায়।