বাংলা হেডলাইনস সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: যমুনা নদীর তীরবর্তী সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলে নৌকায় মৌসূমী পাটের হাট জমে উঠেছে। এতে কৃষকেরা পাটের দামও ভালো পাচ্ছে এবং পাট কেনাবেচার ঐতিহ্য ফিরে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্ষার পানি কমে যাওয়ার পর থেকে ওই উপজেলার নাটুয়ারপাড়া হাটকে ঘিরে নৌকায় এ পাট কেনাবেচা হচ্ছে।
বর্তমানে পাটের দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকেরা এখন খুশি। এবার এ উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকার উৎপাদিত পাট কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। চরাঞ্চলের জনবহুল এ হাটটি সপ্তাহে শনিবার ও বুধবার সকাল থেকে নৌকায় এ হাট শুরু হয়। পাট কেনা বেচায় এখন নৌকার হাট জমে উঠেছে।
বর্তমানে ৩ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায় গড়ে প্রতিমন পাট বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, উপজেলার চরাঞ্চলের নাটুয়ারপাড়া, মাইঝবাড়ি, তেকানি, মনসুর নগর, চরগিরিশ অঞ্চলে এবার পাট চাষ বেশি হয়েছে। এ অঞ্চলের নাটুয়ারপাড়াসহ বিভিন্ন হাটকে ঘিরে নৌকায় লাখ লাখ টাকার পাট বিক্রি হচ্ছে।
এসব হাটে বগুড়া, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরের ব্যবসায়ীরা পাট ক্রয় করতে আসছে।
পাট ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছরের চেয়ে এ অঞ্চলে এবার পাটের আমদানি ভালো হচ্ছে। কৃষকেরা পাটের দামও ভালো পাচ্ছে এবং এ অঞ্চল থেকে পাট ক্রয় করে নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এদিকে এ পাট কাটার শুরু থেকে যমুনা নদীতে পানি ক্রমাগতভাবে বাড়তে থাকে এবং লাভজনক এ পাট কৃষকেরা ঘরে তোলার পর পরই যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নিম্নাঞ্চল বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে।
এ বন্যার পানি ক্রমাগতভাবে নেমে যাওয়ায় নৌকায় পাট বেচাকেনা জমে ওঠে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার রেজাউল করিম বলেন, এবার বন্যায় পাটের খুব একটা ক্ষতি হয়নি। কারণ বন্যা আসার আগেই কৃষকেরা পাট কেটেছে। পাট চাষে কৃষকদের পরামর্শ দেয়ায় তারা এ সুফল পাচ্ছে।
কাজিপুর থানার ওসি পঞ্চনন্দ সরকার বলেন, যমুনা নদী ও চর এলাকার হাটগুলোতে দিন ও রাতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এ জন্য নদীপথে এখন আইন শৃঙ্খলা অবনতির কোন আশংকা নেই।
কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ হাসান সিদ্দিকী বলেন, চরাঞ্চলের অধিকাংশ হাটে নৌকায় পাট বিক্রির বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে।