বাংলা হেডলাইনস রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি: সাপ্তাহিক ছুটি ও বড়দিন মিলে টানা তিন দিনের ছুটিতে রাঙ্গামাটির পর্যটন স্পটগুলো পর্যটকের ভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। রাঙ্গামাটির প্রাকৃতিক নৈসর্গে ঘেরা হ্রদ-পাহাড়ের মিতালীতে শহরের যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দুর করতে রাঙ্গামাটি শহরের বিনোদন কেন্দ্র গুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়।
শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) রাঙ্গামাটির হোটেল মোটেগুলো
কোথাও কোন রুম খালি নেই। রুম না পেয়ে এক রুমে
গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে পর্যটকদের। অনেকেই রাঙ্গামাটির বিভিন্ন স্কুলে ও বাসে অবস্থান
নিতে দেখা গছে।
সাপ্তাহিক ছুটি ও বড়দিন মিলে টানা তিন দিনের ছুটিতে রাঙ্গামাটির পর্যটন স্পটগুলো মুখরিত
হয়ে উঠেছে।
রাঙ্গামাটির প্রাকৃতিক নৈসর্গে ঘেরা হ্রদ-পাহাড়ের
মিতালীতে শহরের যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দুর করতে রাঙ্গামাটি শহরের বিনোদন কেন্দ্র
গুলোতে পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আগামীকালও
রাঙ্গামাটির পর্যটন স্পটগুলোতে মানুষের ভিড় থাকবে।
এদিকে রাঙ্গামাটির মেঘের রাজ্য সাজেক ভ্যালিতেও কানায় কানায় পর্যটকে
পরিপুর্ণ। এবার সাপ্তাহিক ছুটির সাথে বড় দিনের ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা তিন
দিনের বন্ধে ইতোমধ্যে মেঘের রাজ্য সাজেকের ছোট-বড় সব কটেজ শতভাগ বুকিং
হয়ে গেছে। অতিরিক্ত পর্যটকদের জন্য তাবু খাটিয়ে রাখার ব্যবস্থা করেছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, মৌসুম শুরুতে কিছুটা কম
পর্যটক আসলেও আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভালো বুকিং রয়েছে। পর্যটক আসায় খুশি ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে রাঙ্গামাটির আগত পর্যটকদের সেবা দিতে প্রস্তুতি ছিলো রাঙ্গামাটির সকল মহল।
হোটেল মোটেল, টুরিষ্ট বোট, টেক্সটাইল ব্যবসায়ীরা পর্যটকদের সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
রাঙ্গামাটি হৃদ পাহাড়ের মিতালী দেখে পর্যটকরা খুবই খুশী। রাঙ্গামাটিতে শীতের শুরু থেকে
কিছু কিছু পর্যটক আসলেও ছেলে মেয়েদের পরীক্ষার পর থেকে ও টানা তিন দিনের বন্ধে অসংখ্য
পর্যটকের আগমন ঘটে। পর্যটন নৌ ঘাট থেকে বোটে করে বিভিন্ন এলাকা ঘুরতে যাচ্ছে।
রাঙ্গামাটিতে ঘুরতে আসা পর্যটন লোকমান হাকিম বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে
ভর পুর রাঙ্গামাটি। আমাদের দেশের মানুষ কেন বিদেশে যায় জানি না। বিদেশে
গিয়ে যে টাকা খরচ করে তার চেয়ে অনেক কম টাকা খরচে রাঙ্গামাটিতে ভ্রমন
করলে আনন্দ আরো বেশী পাওয়ায়। আমি আজ থেকে ৬ বছর আগেও দেশের বাইরে যেতাম ঘুরতে। এখন
আর যাই না।
পর্যটক বিশেষ রাবেয়া বেগম বলেন, রাঙ্গামাটিতে অনেক দেখার মতো সৌন্দর্য
আছে। যা আমাদের দৃষ্টি দিয়ে দেখতে হবে। এখানে যে সকল পর্যটন স্পটগুলো
রয়েছে তা যদি আরো একটু সাজানো যায় তাহলে কোন পর্যটক বাইরে যাবে না। সকলেই রাঙ্গামাটিতেই
বেড়াতে আসবে।
তিনি বলেন গতকাল রাতে সাজেক ছিলাম আজ রাঙ্গামাটিতে
ঘুরছি মনে হচ্ছে আমি স্বর্গে আছি।
রাঙ্গামাটি বোট ইজারা দার মো: রজমান আলী তিন দিনের টানা ছুটিতে পর্যটক প্রচুর এসেছে।
আশা করছি আগামী দিন গুলোতেও আরো ভালো পর্যটক রাঙ্গামাটিতে আসবে। তিনি বলেন, বোট ভাড়া
খুবই সীমিত আকারে রাখা হচ্ছে। সরকারের বেধে দেয়া নিয়মেই আমরা পর্যটকদের সেবা দিচ্ছি।
রাঙ্গামাটি হোটেল স্কয়ার পার্কের ম্যানেজার জানান মো: রায়হান বলেন, রাঙ্গামাটির হোটেলগুলোতে
পর্যটকের আগমন ভালো হয়েছে। আমাদের হোটেলসহ অন্যান্য হোটল গুলোতে শতভাগ বুকিং রয়েছে।
আশা করছি আগামীতেও আমাদের রাঙ্গামাটিতে আরো বেশী পর্যটকের আগমন ঘটবে।
রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক সৃজন বড়ুয়া বলেন, গতকাল শুক্রবার থেকে রাঙ্গামাটিতে
প্রচুর পর্যটক আসে ঝুলন্ত সেতু এলাকায়। গত দুই দিন থেকে আমাদের আবাসিক রুমে প্রায় ৯০
ভাগ বুকিং রয়েছে। এখনো আমাদের কাছে ফোন আসছে রুমের জন্য।
তিনি বলেন, শুধু পর্যটন কমপ্লেক্স নয় রাঙ্গামাটির
সব কয়টি হোটেল মোটেল পরিপুর্ণ। কোথাও কোন রুম খালি নেই।
তিনি আরো বলেন, শুক্রবার সকাল
থেকে সন্ধ্যায় পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার মানুষ
ঝুলন্ত সেতু এলাকায় প্রবেশ করেছে।’ আজো সম পরিমাণ পর্যটক রয়েছে পর্যটনে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঘেরা রাঙ্গামাটি জেলার পর্যটন শিল্পের বিকাশে আরো নতুন নতুন পর্যটন
স্পট গড়ে উঠবে এবং পর্যটকদের ভ্রমনে আরো বেশি নিরাপদ ও আকর্ষণীয়
করা গেলে তিন পার্বত্য জেলায় হবে দেশের একমাত্র পর্যটনের কেন্দ্র স্থল বলে মনে করেন
ঘুরতে আসা পর্যটকরা।