বাংলা হেডলাইনস রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : বাংলাদেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র (কপাবিকে) থেকে ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবার সুযোগ থাকলেও বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে মাত্র ৪০ মেগাওয়াট। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ৫টি জেনারেটর প্রস্তুত থাকলেও বর্তমানে শুধু মাত্র একটি জেনারেটর সচল রয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হবার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সুত্রে জানা গেছে, শুধু মাত্র পানির অভাবে কাপ্তাই জল জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। সুত্র মতে কাপ্তাই লেকে এই মুহুর্তে পানি রুলকার্ভের (পানির পরিমাপ) চেয়ে প্রায় ১৫ ফুট মীন সী লেভেল (এমএসএল) কম রয়েছে। পানি কম থাকার কারণে কাঙ্খিত মাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা সম্ভব হচ্ছেনা।
কাপ্তাই হ্রদে পানি কম থাকার কথা স্বীকার করে কাপ্তাই জল জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এ টি এম আব্দুজ্জাহের বলেন, রুলকার্ভ (পানির পরিমাপ) অনুযায়ী এখন (৬ ফেব্রুয়ারি) কাপ্তাই হ্রদের পানি থাকার কথ ৯৬.৩০ ফুট মীন সী লেভেল। কিন্তু এখন হ্রদে পানি রয়েছে ৮২.৮০ ফুট মীন সী লেভেল। পরিমানের চেয়ে প্রায় ১৫ ফুট পানি কম থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন যথাযথভাবে করা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কাপ্তাই জল জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৫টি জেনারেটর প্রস্তুত রয়েছে। ৫টি জেনারেটর একযোগে পরিচালনা করতে পারলে ২৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কাপ্তাই থেকে উৎপাদন করা সম্ভব হতো। কিন্তু পানি কম থাকায় বর্তমান শুধু মাত্র ২ নম্বর ইউনিট সচল রয়েছে। এই ইউনিট থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে বলে ব্যবস্থাপক জানান।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি দায়িত্বশীল সুত্র জানায়, আপাতত বৃষ্টি হবার কোন সম্ভাবনা নেই। আর বৃষ্টি না হলে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ারও কোন সম্ভাবনা নেই।
তবে কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান বাঁধ সংলগ্ন সোলার প্যানেল থেকে বর্তমানে ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত ৪০ মেগাওয়াট এবং সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত ৫ মেগাওয়াটসহ মোট ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বর্তমানে কাপ্তাই থেকে উৎপন্ন হচ্ছে। উৎপাদিত বিদ্যুতের পুরোটাই জাতীয় গ্রীডে সঞ্চালন করা হচ্ছে। যা সারাদেশে বিতরণ করা হচ্ছে বলে সুত্রে জানা গেছে।